March 13, 2026 3:02 am

Writer, Politician, Freethinker, Activist

March 13, 2026

Writer, Politician, Freethinker, Activist

আমার দুই বোন ছোট ছোট নক্ষত্র হয়ে আকাশে জ্বলছে

Spread the love

আমার দুই বোন রাশেদা আর নাসিমা
ওড়া ছিলো দুইটি ছোট ছোট নদীর ঢেউ
ওরা ছিলো আমার দুইটি চোখ,
ওড়া ছিলো আামর দুইটি হৃদয়,
ওড়া এই পৃথিবীর মানচিত্রে
মাত্র চার ও ছয় বছর সাঁতার কেঁটে ছিলো
মাত্র চার আর ছয়টি বর্ষা কবিতা লিখে
চুপ করে একদিন
কাউকে না বলো মিশে গেছে নদীতে,
ওড়া ফিরবে না আর কোনদিন কোন কালে,কোন ক্ষণে।

ওদের কোলে,কাঁধে
তুলে নিয়ে আমি
আমাদের বাড়ীর নাক বারাবর
অনতি দূরে ঠিক সোজাপথে জগন্নাথ মন্দিরের চলে যেতাম
প্রতিবছর প্রতিদিন দুর্গাপুজোর ঢাক বাজলেই।

ধূপের ধোঁয়ার মধ্যে
ওড়া দেবীর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকত,
যেন দেবীরা ওদের কোন কিছু হয়।
জানতে চাইতো, দেবীদের ভাই কোথায়?
ওড়া শিশু, ধর্ম বুঝে না
তবে সম্পর্ক বুঝে।
ওড়া ধর্ম বুঝার আগেই মরে গেছে,
আমার দুই বোন ছোট ছোট নক্ষত্র হয়ে জ্বলছে আাকশে।

আবার কখনো কোনো দিন শুক্রবার এলে
মসজিদের পাকা
শীতল মেঝেতে আমি হাত ধরে দাঁড় করাতাম ওদের,
ওরা আমার পাশে ছোট ছোট সেজদা করত
আর হুজুরের আউড়ানো কোরানের
আয়াতগুলো ওদের ঠোঁটে ফুটত ভুলাভাল উচ্চারনে
ওড়া ভাবতো কোরান পড়ার মত হুজুরের সাথেও
বুঝি সুরা পড়তে হয়!

ওরা ছিলো ছোট ছোট দেবী
আমার মায়ের মতই ছিলো ওদের কোকড়ানো চুল,
ওরা, ছিলো ঘরের দুইটি খরগোশ ছানা,
ছিলো যেন পুকুরের জলে ভেসে থাকা দুটি সাদা শাপলা
বাঁশ ঝারে টুনটুনি দেখলেই বলতো এনে দাও
ঘাসফরিং দেখলেই বলতো ধরে দাও চুলে রেখে দেবো
মারবো না ওদের।
টকটিকির ডিম এনে দিতে বলতো
পাট শোলার উপর ফুঁদিয়ে আকাশে উড়াবে বলে।
রংঙিন মারবেল দেখলেই কেড়ে নিয়ে যেত আমার হাত থেকে।

ওরা দুজন বছরে দুই বার ইদগাহের মাঠে যেতে চাইতো
আামার হাত ধরে,
ওরা দৌড়াত বাতাসের সাথে—
নতুন জামার রঙে সকালটা
আবার হঠাৎ ঈদের চাঁদ হয়ে উঠত
উঠোনে ওরা নাঁচতো খেলতো গান গাইতো ভুল বাক্যে সুরে।

একদিন নাসিমা
আমার বন্ধু অধিরের সাথে
ঘোড়ার পিঠে উঠেছিল ঘোড়া চলছিলো কদমে কদমে
লাল ও সাদা রংঙের ঘোড়াটা যেন পৃথিবীর ছিলো না
যেন মেঘের ঘোড়া,
চার খুরের শব্দে বাজছিল যেন কোন অদৃশ্য ঢোলক।

আমি অনতি দূর থেকে দেখেছিলাম—
নাসিমার ঝাঁকরা চুলগুলো বাতাসে উড়ছে
আমার ছোট্ট বোন নাসিমার হাসিতে যেন
দিনের বেলাতেই ঝরে পরছিলো যেন চাঁদের আলো।

ওদের দুজনকে পুকুরের জলে সাঁতার কাঁটা শেখাতাম
যাতে জলে ডুবে না মরে যায়!

আজ আমি পুকুরের জলে তাকাতে ভয় পাই
পুকুর ও জল আমাকে বলে ওঠে
তোমার বোনেরা এখন আকাশের নদীতে সাঁতার কাটে!
শারদীয় উৎসব এলেই
আমি মন্দিরের ঘন্টা ধ্বনিতে শুনি রাশেদার হাসি।
মসজিদের আজান শুনলে মনে হয় নাসিমা যেন দূর থেকে ডাকে।

পৃথিবীর সব পথ
আজও আমাকে নিয়ে যায় দুইটি ছোট ছোট ছায়ার কাছে
সব চার আর ছয় বছরের মেয়ে শিশুরা যেন ওদেরই ছায়া।

একজনের দাদা ছিলাম আরেকজনের ছিলাম ভাইয়া
এখন আমাকে আর দাদা ও ভাই বলে ডাকার কেউ নেই!
ওড়া ছোট ছোট নক্ষত্র হয়ে গেছে জ্বলছে আকাশে
ওরা জন্মিবে না আর, ইস! সত্যিই যদি পুনর্জন্ম থাকতো!

অথবা

কোন দেবীর হাত ধরে যদি নেমে আসতো স্বর্গলোক থেকে
আর ওদের আগমনে
আমার পিঠ পরিণত হতো ঘোড়ার পিঠে
অথবা কোন ফেরেসতার
ডানায় বসে উড়ে উড়ে চলে আসতো পাখিদের মত
আমার কাঁধে ওড়া বসে যেতো
আবার যেতে চাইতো মেলায় মাটির ঘোড়া, গাড়ি, হাড়ি পাতিল কিনতে!

আমার দুই বোন
ধর্ম বুঝার আগেই ছোট ছোট নক্ষত্র হয়ে আকাশে জ্বলছে।
যদি ওরা ধর্ম বুঝতো, আর বেঁচে থাকতো
তবে হয়তো

আমাকে দাদাভাই বলে ডাকা জীবত বোনটির মতই তীব্র ঘৃনা করতো আামকে!
আমার কষ্ট হয়তো আরো ত্রিশ কোটি গুন বেড়ে যেতো

তবুও যদি ওরা
আকাশে নক্ষত্র না হয়ে আমার সামনে
জোনাকির মত উরে উড়ে জ্বলতো
আামকে নিরীশ্বরবাদী বলে
তীব্র ঘৃনা করেও যদি বেঁচে থাকতো
তবুও আমি
খুশি হতাম ঋষিদের মত বেদনায় বুক এত ভারী থাকতো না

আমার দুই বোন
আমার দুই বোন

আরো পড়তে এখানে ক্লিক করুন…..


Spread the love
Tags :

Grid News

Latest Post

Find Us on Youtube