March 13, 2026 3:02 am

Writer, Politician, Freethinker, Activist

March 13, 2026

Writer, Politician, Freethinker, Activist

ইরান ইসরায়েল যুদ্ধের অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ!

Spread the love

যুদ্ধ চলছে, যুদ্ধ চলবে। কেন যুদ্ধ সংগঠিত হয়? ভুমি দখল করার জন্য। বাজার দখল করার জন্য। দেশ ও ব্যাক্তির নিজের অহংকার টিকিয়ে রাখার জন্য। শক্তি ও ক্ষমতা দেখানোর জন্য। আর কি থাকতে পারে? প্রতিশোধ নেয়ার জন্য। আর কি ধর্মের প্রচার প্রসারের জন্য? আর, বন্দর ঘাটি দখলের জন্য। আরো অনেক কারন আছে৷

চেঙ্গিস খানের অনেক কন্যা ছিলো। তার কন্যার স্বামীর নাম ছিলো তোখুচার। যার আরেক নাম দেয়া হয় তোখুচার কোরেগেন। এই দুই শব্দের মানে হলো, চেঙ্গিস খানের জামাতা। অনেকেই ক্ষমতার জন্য কন্যা পুত্রকে বিয়ে দেন। তা মোঘল হোক, ওসমানিয়া খিলাফত হোক। বা খুলাফায়ে রাশেদিন হোক বা হাল আমলের লাদেন হোক বা মোল্লা ওমর।

তারা তো নিজেদের কন্যা একে অপরের নিকট বিয়ে দিয়ে নিজেরাই জামাই শ্বশুর হয়ে গিয়েছিলেন। যা আমরা ইসলামের সহী খুলাফায়ে রাশেদিনেও দেখি! ইসলামের ইতিহাস বলে, প্রফেট মোহাম্মদের দুই জামাতা, দুই শ্বশুর মিলে চার খলিফা ছিলো৷ তারাও নিজেদের বিরুদ্ধে নিজেরা প্রক্সি যুদ্ধ চালিয়ে ছিলো। খলিফা আলি তো আরো দু কদম আগে গিয়ে উম্মুল মুমেনিন বা মুসলিমমা মা আয়শার সাথেও যুদ্ধ করেছিলেন। তা ইতিহাসে উটের যুদ্ধ নামে খ্যাত। এ যুদ্ধ ছিলো ক্ষমতার। চার খলিফা পরস্পরের আত্মীয় হলেও তিনজনই হত্যার শিকার হয়েছেন।

মাহাভারতেও দেখা যায় রাজ্য বিস্তার ও শক্তি অর্জন ও রাজত্ব টিকিয়ে রাখতে কন্যা বিয়ে দেয়া হয়। পঞ্চাল দেশের রাজা দ্রুপদ তার কন্যা দ্রৌপদীকে পান্ডবদের কাছে বিয়ে দেয়। এই বিয়ের রাজশক্তি জোট কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ ডেকে আনে। এ যুদ্ধ সম্ভ্রম রক্ষার যুদ্ধ হয়ে দাড়ায়। যুদ্ধের বহু করান থাকে।

দ্রৌপদী ও পান্ডবদের বিয়ে ছাড়াও, অর্জুন সুভদ্রা, অর্জুন উলুপী ধৃতরাষ্ট্র গান্ধারী ভীম হিডিম্বা এমন আরো রাজনৈতিক বিয়ের উদাহারন মহাভারতে আছে। তেমনি চেঙ্গিস খানের অনেক জামাতা ছিলো। যাদের সেনাপতি নিয়োগ দিয়ে সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতেন। তার সাম্রাজ্য ছিলো অনেক বড়।

সেই সেনাপতি ও জামাতা তোখুচার তীরের আঘাতে নিহত হলে। মেয়ের কান্না দেখে চেঙ্গিস খান জামাতা হত্যার প্রতিশোধ নিতে যুদ্ধ শুরু করে। সে দেশের শহরের প্রায় সকল নাগরিকদের নির্মমভাবে হত্যা করে।
যা বলছিলাম, যুদ্ধের বহু কারন রয়েছে চেঙ্গিস খান যুদ্ধ করতো ভূমি জয়ের নেশায়। ধর্ম প্রচার বা বাজার দখলের জন্য তার কোন যুদ্ধ ছিলো না।

আজকে যে ইরান ইসরায়েল আমেরিকার যুদ্ধ দেখছি তা কেবল যে বাজার দখলের জন্য নয়৷ আরো অনেক কারন আছে। পাশ্চ্যাত্য বলুন মধ্যপ্রাচ্য বলুন। আর দক্ষিন এশিয়া বা বিশ্বের যে কোন দেশের বুদ্ধিজীবীরা বলুন। তারা কেউ আসল কথাটা বলবে না। বা কেউ একটা লিখলে, মানলে আরেকটা স্বীকার করে না।

বুদ্ধিজীবীরা বিভক্ত কেউ মুসলিমবাদী,কেউ ইহুদিবাদী,কেউ

। যারা তারা সকলে পন্ডিত, কেউ কেউ বিশ্ববরেণ্য পন্ডিত, মহাপন্ডিত কোন সন্দেহ নাই। নোয়াম চমস্কি এক মহা পন্ডিত, আমি তো দুর কি বাত,অনেক পন্ডিত তার শিষ্য হওয়া যোগ্যতা রাখে না। এত বড় একজন পন্ডিত তিনি। কোথায় যেন তিনি একটা শূন্যতা রেখে যান। অনেক সত্য বলেন লিখেন, কিন্তু সত্য এড়িয়ে যান।।

আমরা পন্ডিত মহা পন্ডিতদের এ দৈনতা পাকিস্তান বাংলাদেশ এমন কি ভারতেও দেখি। কেউ সাম্প্রদায়িক কারনে,কেউ জাতীয়তা বোধের কারনে। কেউ ভোটের জন্য, কেউ দলের জন্য। কেউ তার কথিত আদর্শ টিকিয়ে রাখতে। পরিতাপের বিষয় কেউ অর্থের জন্য মিথ্যা বলেন,মিথ্যা লেখেন৷ কখনো কখনো হিংসা, জেদও সব সত্য লেখায়, বলায় তারা বিরত থাকেন।

ইরান ইসরায়েল যুদ্ধেও আমরা তাই দেখছি। সব সত্য এক সাথে বলে না কেউ। এক পক্ষ বলছে ইরান দোষী আরেক পক্ষ বলছে ইসরায়েল দোষী। তো কেউ বলছে,আমেরিকা দোষি। সবাই দোষী এ কথাটা বলার কেউ নেই! ইসলামের খলিফা আলীর লেখায় এক জায়গায় পড়ে ছিলাম। আদালতে দুইজনই একই সাথে মিথ্যাবাদী হতে পারে। কিন্তু দুইজনই একসাথে সত্যবাদী হতে পারে না।

তাহলে তো সমস্যাই থাকে না। তেমনি এ যুদ্ধে দুইপক্ষই দোষী হতে পারে। কিন্তু দুজনই নিরাপরাধ হতে পারে না। আরো একটা উদাহারন দেই। ২০২৩ এর সাত অক্টোবরে হামাস জঙ্গিরা নিরস্ত্র মানুষের উপর হামলা করে। ইহুদি নারীদের ধর্ষন করে। হাজারের অধিক মানুষ মেরে ফেলে। অপহরণ করেও নিয়ে যায়। এ ঘটনাতে মুসলমান উল্লাসিত হয়। ইদের মত উৎসব পালন করে। হামাস সন্ত্রাসীদের এ আচানক আক্রমণ ও আক্রমনের সফলতায় ইরান হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াকে নিয়ে শুকরানা সেজদা দিয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ বলেছে।

সেগুলো আবার ইরানি মিডিয়া প্রচার করেছে। বামপন্থীরা এ বিষয়টা আরো তিন পা এগিয়ে এমন কিছু করেছে। বলেছে লিখেছে যেন ইসরাইলে হামলা করে নিরীহ জনগন হত্যা ধর্ষন করা, গাজার সন্ত্রাসীদের অধিকারের মধ্যে পরে! তারপর ইসরায়েল যখন পাল্টা হামলা করলো গাজায় ধ্বংস যজ্ঞ চালালো। তখন তারা উভয়ে মুসলিম ও বামপন্থীরা কান্না ও চিৎকার শুরু করলো। মনাবাতা খতরে মে! আমরা তা দেখলাম। ইসরায়েল গাজায় দখল নিয়েই থামেনি৷ সাত অক্টোবরের মাস্টার মাইন্ডদের একের পর এক গোপনে ও প্রকাশ্যে হত্যা শুরু করলো ৷

বর্তমানে সেই সাত অক্টবরের যুদ্ধটা বড় হয়ে, ইরান ইসরায়েল প্রকাশ্যে যুদ্ধে রুপ নিলো। ইসরায়েল হুতি হামাস হিজবুল্লাহকে ধ্বংস করতে চাইছে। কারন এরা ইরানের হয়ে ছায়া যুদ্ধ করে চলছে। ইরানের সকল বড় বড় নেতা সামরিক ব্যাক্তি বিমান হামলায় মারা পরছে,পরবে আরো। তাতে কোন সন্দেহ নেই। অন্য দিকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের ইসরায়েল ও আমেরিকার আরব মিত্রদেশগুলোতে হামলা করে চলছে। অর্থ কূটনৈতিক ও যুদ্ধশক্তি বিবেচনায় আমেরিকার কাছে ইরান কোন শক্তিই নয়। ইরান আমেরিকা যুদ্ধট অনেকটা ইদুর বিড়াল খেলার মত। ইরান এখনে ইদুর, বিড়াল আমেরিকা।

যদি চায়না ও রুশরা সহযোগীতা করে। ইরানের আসলে কিছুই নেও সব রুশ ও চায়নার। আসলে যুদ্ধ এখানে কেন হচ্ছে? ইসরয়েল ইরান কেন যুদ্ধ করছে? ইরান তো ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়া ২য়,মুসলিম দেশ প্রথম দেশ তুরস্ক এটাই ইতিহাস। ইসরায়েল ও মুসলিম প্রসঙ্গ যে বারবার আসছে সত্যিই কি তাই? তাহলে ইরান ইসরায়েল যুদ্ধে কেন আরবলীগ ইরানের পক্ষ নেয় না ?

কেন বাকি ৫৬টি মুসলিম দেশের এটিও কোন সরকারি বিবৃতি দিয়ে ইরানের পাশে নেই! বুঝা গেলো যুদ্ধটা ইসরায়েল ইহুদি বনাম মুসলিম যুদ্ধ নয়। মুসলিমদের দুইটি ভাগ শীয়া মুসলিম ও সুন্নি মুসলিম। একজন আল্লা হাফেজ বলে।।অন্যজন খুদা হাফেজ বলে। শীয়া,সুন্নির মত আল্লা খোদায় বিভক্ত তারা এটা সত্য। অপ্রিয় সত্য। একে অপরের চিন্তা দর্শন ধর্মীয় আচার পদ্ধতি এমনকি, মসজিদও এক নয়,আজানও এক নয়।

পবিত্র কালেমা শাহাদৎ বলতে যা বুঝায়। তাও শীয়া সুন্নীর মতই পৃথক। এ বিরোধ মিমাংসা যোগ্য নয়। হবেও না। আরবরা কোন দিনই অতীতের পারস্য, আজকের ইরানের আধিপত্য মেনে নেবে না। নেয়নিও জাতীয়তাবাদের কারনে। ধর্মীয় কারন তো বলেছিই৷ এ ধর্মীয় বিরোধ কেবল কারবালা থেকে নয়। ইসলামের প্রোফেট মোহাম্মদের মৃত্যুর দিন থেকে শুরু হয়েছে। ১৯৭৯ সাল থেকে আরো বেড়ে গেছে। ২০২৬ এ এসে আবারো আরো বেড়ে গেলো আরব দেশে ইরানের মিসাইল হামলায়। যা আমেরিকা ইজরায়েল গোপনে কামনা করছিলো।

সুন্নী আরবরা, অনারব শীয়া ইরানের এ হামলাকে চরম বেইজ্জতি বলে ধরে নিয়েছে। মূলত সুন্নী আরব রাষ্ট্রে হামলা করে ইরান তার বর্তমান মানচিত্রকে হুমকির ভিতর ফেলে দিলো! এ উপমহাদেশের মধ্যপ্রাচ্যে গতর খাটা আাধা মুসলামনেরা তা বুঝবে না। বুদ্ধিজীবীরা তা বুঝাবে না। আরবরা এখন ইরানকে টুকরো করার মিশনে নামবে। নিশ্চিত থাকুন।

অনারব শীয়া ইরানের এই সক্ষমতাকে আরবরা তাদের জন্য ভয়ানক ঝুঁকি মনে করা শুরু করবে,করেছে। আরবরা আগে থেকেই ইরানকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে আসছে। হুতি,হামাস, হিজবুল্লার সামরিক কার্যক্রমে ইসরায়েলের মত আরবরাও শংকিত। তাই হয়তো সৌদী আরবের প্রিন্স কয়েক বছর আগেও বলেছিলো। আমেরিকা ইরান আক্রমন করলে তাদের কোন আপত্তি থাকবে না!

সোজাকথা সুন্নী আরবরা কখনোই অনারব শীয়া মুসলিম ইরানীদের কতৃত্ব মানবে না।যদিও তারা তুর্কি খিলাফত ভাঙ্গার সময় ঐক্যবদ্ধ ভাবে বৃটিশদের সাথে কাজ করে যাচ্ছিলো। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও আমেরিকা ২য় বিশ্বযুদ্ধে মিত্র থাকলেও এখন তারা শত্রু পরস্পরের। আরব ইরানও এখন তেমন। খিলাফত ভাঙ্গার কারনে এবং ন্যাটো বাহিনীর সদস্য হওয়ার কারনে তুরস্ক আমেরিকার বিরুদ্ধে যেতে পারবে না কখনোই। আমেরিকার এ যুদ্ধ তিনটি স্বার্থ। প্রথমত তারা ইসরায়েলকে নিরাপদ করতেছে। ২য়ত আমেরিকার মিত্র আরব সুন্নি মুসলিমদেরকেও নিরাপত্তা দিচ্ছে। তৃতীয়ত আমেরিকা তারা আগামীদিনের প্রতিপক্ষ চায়নার তেলে কেনার বাজার সংকুচিত করে তুলতেছে। ইরান এক হিসেবে বলির পাঠা! আমেরিকার, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অপহরনও একই কারনে করেছে। চায়না যাতে দূর্বল হয়। কারন ভেনিজুয়েলায় রয়েছে তেলের ভান্ডার। আরো কিছু কারন আছে অবশ্যই।

আমেরিকা ইরানকে পাকড়াও করার আগে। পাকিস্তানের জেনারেলকে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। তারপর সৌদি আরবের সাথে সামরিক চুক্তি করতে আগ্রহী করে তোলে। গাজায় সৈন্য রাখতে বলে। এরপর আফগানিস্তানের সাথে যুদ্ধে ব্যাস্ত করে তুলে। এ গুলো আমেরিকা ও ইসরায়েলের যুদ্ধ কৌশল। আর ইাসরায়েল তো ইরানকে আক্রমন করার জন্য মুখিয়ে ছিলো৷ সাত অক্টোবরের হামলার প্রতিশোধ নেয়ার স্পৃহা তো রয়েছেই।

ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কারনেই দূর্বল ইরান চাইবে ইসরায়েল এটাই স্বাভাবিক৷ কেন না কোন আরব রাষ্ট্র গত ইসরায়েলের রাষ্ট্রের জন্য হুমকি নয়। ৬৭তে সাত দিনের যুদ্ধ আরব রাষ্ট্রের সস্মিলিত আক্রমন ঠেকিয়ে তার সক্ষমতা ও আরবদের আগামীর পরিনতি কি হবে তা বুঝিয়ে দিয়েছে। আরাম আয়েশে থাকা আরবের বাদশা আমির ওমরারা আর কোন ঝুঁকি নিতে নারাজ। ইরানকে ইসরায়েল ভয় পাওয়ার কারন অস্ত্র নয়, টাকাও নয়। ওসব ইসরায়েল অনেক আছে ইরানের চেয়ে বহুগুন।

ইরানের সংবিধানে লেখা ইসরায়েলকে তারা ধ্বংস করবে। ইরানের বিদ্যালয়গুলোতে আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের মত বাজানো হয়। ইসরায়েল আমেরিকার ধ্বংসের গান। এই যে ইসরায়েলের বিরোধী প্রজন্ম তৈরী হচ্ছে। এটা ইসরায়েলের জন্য বিপজনক মিসাইলের চেয়েও বেশি। খোদ ফিলিস্তিনিরা টু স্টেট সলিউশন মেনে নিলেও খোমেনির শাসনে থাকা ইরান মানতে নারাজ! এখনেই ইসরায়েল ও আমেরিকার মাথা ব্যাথা।

পৃথিবীর প্রত্যেক মুসলমান এক হিসেবে একেকজন মিনি হিটলার। তা শিক্ষিত হোক বা মূর্খ, মাদরাসায় পড়ুক বা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তারা কেবল ইসরায়েল নয় স্বপ্ন দেখে পৃথিবী থেকে একদিন ইহুদিদের তারা খতম করে দেবে। এটা তাদের স্বপ্ন এবং ধর্মীয় নির্দেশ! ধর্মের ভালো কথা কেউ মনাুক না মানুক কিন্তু ধর্মীয় নির্দেশ যদি হয় তা ধ্বংসের ডাক হয়। হত্যার হয়। তবে তা আফিমের নেশার মত কাজ করে। মুসলমানেরা অন্তত এ হুকুম মানার জন্য সদা প্রস্তুত সে এক ওয়াক্ত নামাজ না পরলেও।

তবে সুন্নী মুসলিমদের এই ইহুদি নিধন করার স্বপ্নে কমই ভয় পায় ইসরায়েল ও আমেরিকা।কারন সৌদী আরব তথা আরব রাষ্ট্রগুলোর নিয়ন্ত্রণে সকল সুন্নী মুসলিম রাষ্ট্র। আর আরবরা আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে। সোজা অংক শীয়া ইরান ছাড়া সকল মুসলিম রাষ্ট্র আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে। আমেরিকা ইসরায়েল পরস্পরের ঘনিষ্ঠ মিত্র।

এবার বলি, ইরান কেন এ যুদ্ধে লড়ছে? ইসরায়েল কেন সে ধ্বংস চায়? ইসরায়েলের প্রতিবেশি মুসলিম রাষ্ট্রগুলো তো এত অস্থির নয় ইসরায়েলের ধ্বংস কামনায়! তাহলে ইরান কেন আরবলীগের চেয়ে, কেন আগবাড়িয়ে ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধে জড়াতে চায়? কারন বিষয়টা যত না ধর্মের তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক ও আরব অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের জন্য।

ইরান এ যুদ্ধের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের নেতা তো মধ্যপ্রাচ্যের বড় ভাই হতে চায়। যার জন্য ইরান, চায়না ও রাশিয়ার সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। একদা এ ইরান আমেরিকার ঘনিষ্ট ছিলো।
সে জন্য, এ যুদ্ধটা সুন্নী আরব মুসলিমদের দৃষ্টিতে এক রকম৷ ইরানের অনারব শীয়া মুসলিমদেরদৃষ্টিতে আরেক রকম।

আবার,ইসরায়েলের দৃষ্টিতে সে তার প্রমিজল্যান্ডের জন্য লড়ে যাচ্ছে। মক্কা মদিনা যেমন মুসলমানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তেমনি প্রত্যেক ইহুদির ইসরায়েল । শুধুমাত্র একজন ইহুদিই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তাদের প্রমিজল্যান্ডের জন্য ১৮ বিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়ে ছিলো! আমেরিকার আবার ভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। প্ল্যাটফর্ম একটাই সবার গন্তব্য ভিন্ন ভিন্ন।

যুদ্ধ মানেই জীবন নাশ সম্পদের অপচয়,অসুখ। আবার যুদ্ধমানেই কারো কাছে ব্যবাসা। যুদ্ধটা আসলে কারো জন্য পৌষ মাস কারো জন্য সর্বনাশ ডেকে আনে। যেমন যুদ্ধ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য অথচ ভারতের আম্বানির সাথে ৩শত বিলিয়ন ডলারের ব্যবাসয়িক চুক্তি হয়ে গেলো! তবে সত্য এই যে, মানুষের ইতিহাস যুদ্ধের ইতিহাস। আগে হতো অঞ্চল,ধর্ম ও জাতির নামে। এখন যুদ্ধ হয় জাতি ধর্ম ও বাজার দখলের নামে। ঘাটি তৈরীর নামে। ভারতবর্ষে বৃটিশদের ঘাটি তৈরী নিয়ে যুদ্ধ সংগঠিত হয়ে ছিলো। তাও আবার ভারতবর্ষের আমাদের বাংলাতে।

ইরান ইসরায়েল আমেরিকার যুদ্ধপর ভবিষ্যৎ কী? এ যুদ্ধ থামবে নাকি চলতেই থাকবে। আমার ধারনা যুদ্ধ নায়ক ও খল নায়ক বদলে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যে এ যুদ্ধ চলবে অনেক বছর অনেক যুগ। শতাব্দীর বেশিও চলতে পারে এ যুদ্ধ!
এখানে বাজারে দখলদারিত্ব, ধর্ম, জাতীয়তাবাদ,তেল এবং মহাশক্তিধরদের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া সমরাস্ত্র তৈরী বিক্রি ও পরীক্ষা নিরিক্ষার বিষয় তো রয়েছেই। যারা ভাবছেন এ যুদ্ধে আমেরিকার ইসরায়েলের অনেক পয়সা খরচা হচ্ছে।।তাদের জন্য একটা দু:সংবাদ দেই। এ যুদ্ধের প্রকাশ্য সকল খরচা দিচ্ছে সৌদী আরব ও দুবাই। গোপনে মধ্যপ্রাচ্যের আরো দেশ আছে।

ইরান ইসরায়েল যুদ্ধ
ইরান ইসরায়েল যুদ্ধ

আরো ব্লগপোস্ট পড়তে এখানে ক্লিক করুন…..


Spread the love
Tags :

Grid News

Latest Post

Find Us on Youtube