দ্রৌপদী : আধুনিক পাশার সভা (৪)
এখন আর রাজসভা নেই,
আছে পাথর কাঁচে ঘেরা ঘর,
এসি-চালু ন্যায়,
আছে মঞ্চ
মাইকধরা নীরবতা।
পাশা এখন হাতের মুঠোয় নয়,
পাশা এখন টেবিলের নিচে—
টেবিলের উপর
আইনের ভাষায়,
নীতির ফুটনোটে।
সংখ্যা ঘোরে—
ভোট, ফাইল নম্বর,
কেস আইডি,
ট্রেন্ডিং হ্যাশট্যাগ।
একটা পাশা ছোড়া হয়—
নারীর সম্মান নিয়ে।
আরেকটা পাশা—
সত্যের সময়সীমা বিলিয়ে।
মিডিয়া বলে—
“খেলা জমে গেছে।”
সংসদে কেউ জেতে,
কেউ হারে,
কিন্তু দ্রৌপদী
প্রতিবারই বাজি হয়ে যায়।
সে এখন শাড়ি পরে না,
সে পরে প্রতিবেদন,
মেডিক্যাল রিপোর্ট,
আইনি ধারা
সমাজের অন্ধকার।
বস্ত্র টানা হয় না প্রকাশ্যে,
এখন টানা হয় চরিত্র—
শব্দ দিয়ে,
শিরোনাম দিয়ে।
রাত কেন?
চুপ কেন?
আগে কেন বলোনি?
এখন কেন বলো!
কি চাও আর কত কি?
পোশাক কই!
এ প্রশ্নগুলোই
নতুন পাশার গুটি দাগ।
অথচ দ্রৌপদীকে
শয়নে স্বপনে
বস্ত্রহীন দেখতে চায়
সভ্যরা কবিতায় নারীর বস্ত্র হরণ করে!
আদালতে পাশা ছোড়া হয় ধীরে ধীরে,
রায় আসে—
কিন্তু দেরিতে।
দেরি নিজেই এক ধরনের
অপমান।
দ্রৌপদীরা তখন
ডকুমেন্টের স্তূপে দাঁড়িয়ে,
ভাবছে—
ন্যায় কি কেবল
ফাইলের ভেতর নাচে! বাঁচে?
রাস্তায় পাশা ছোড়া হয় জোরে—
কেউ বলে “বিশ্বাস করি না”,
কেউ বলে “সব নাটক”।
পাশা হাসে,
কারণ সে জানে—
ভিড় মানেই তার শক্তি।
দ্রৌপদী চুল খোলে না আর,
সে চোখ তোলে।
এই চোখে আগুন নেই,
এই চোখে নেই হিসাব নিকাশ
সে আর প্রশ্ন করে না—
সে নথি জমা দেয়।
আসলে বিবস্ত্র হয়ে নিজেকেই অন্যের হাতে তুলে দেয় সপে দেয়,দিতে হয় বাধ্য হয়ে!
কিন্তু রাতে,
যখন নগর – শহর ঘুমোয়,
পাশাগুলো আবার গড়িয়ে চলে—
কত নতুন নথি
কতবনতুন মুখ,
নতুন দ্রৌপদীদের কান্নায় আকাশ ভারি হয়ে ওঠে।
সে জানে—
পাশা বন্ধ হয়নি,
বস্ত্র হরনের সম্ভ্রম হরনের কষ্ট দেয়ার কৌশল
আধুনিক থেকে অতি আাধুনিক হয়েছে শুধু।
আর যতদিন ক্ষমতা
খেলতে ভালোবাসবে,
ততদিন দ্রৌপদী
কোনো এক ফাইলে নয়—
রাস্তায়, আদালতে,
তোমার পাশেই দাঁড়িয়ে থাকবে।
কুরুক্ষেত্র চাও কি বলো!
নাকি নিরব দর্শক হয়েই থাকবে তোমরা
দ্রৌপদীরা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয় মেঘের দেয়ালে।
