নক্ষত্রদের চোখ
নক্ষত্রদের চোখে আজ রাতের আকাশ গেছে ভিজে,
জানি না অন্ধকার প্রাচীন মন্ত্র জপে চলছে কি যে!
দূরের দীপ্ত বিন্দুগুলো কাঁদে জ্বলে নিরবধি,
সময়ের বুকে তারা রেখে যায় কোন এক আলোর নদী।
মনে পড়ে যায় ঋগ্বেদ-এর সেই শত প্রার্থনা,
যেখানে ঊষার সাথে ওঠে জ্যোতির গল্প যা নেই কারো জানা।
অগ্নির শিখায় যেমন জ্বলে আদি অগ্নির আহ্বান,
ঠিক তেমনই নক্ষত্রেরা জমিয়ে রাখে আকাশে দিব্য জ্ঞান।
দিগন্ত জুড়ে ছড়িয়ে আছে অগণন তৃপ্তি স্পন্দন,
মহাশূন্য যেন নীরব কোনো উপনিষদের অদৃশ্য বন্ধন।
শূন্যের ভিতর শূন্য, তবু আলোয় আলোয় জোসনায় পূর্ণ,
মৃত্যুর ওপার থেকে আসে জীবনের সুর থেকে গেলো অপূর্ন।
দেখো, এক এক করে সব নক্ষত্র ভাঙে—
কেউ বলে তা পতন, কেউ বলে দেখো উত্থান।
অগ্নিবিন্দু হয়ে সে নামে পৃথিবীর দিকে দিকে,
দেখায় অমরত্বের গল্প নিয়ে ক্ষণিকের স্বপ্ন।
মনে হয়, যেন আমরাও নক্ষত্রেরই ধূলি,
দেহে জমে আছে কত মহাজাগতিক বুলি।
রক্তের ভেতরে জ্বলে উঠে আদিম আগুন,
স্বপ্নের ভিতরে শুনি আকাশের গুনগুন।
রাতে যখন সব শব্দেরা থেমে যায়,
আর নক্ষত্রেরা তখন কথা কয় নীরবে।
তারা বলে—
অন্ধকারকে কখনো ভয় কোরো না,
আমরা তো জনম জনম ধরে অন্ধকারেই জ্বলি,জ্বলছি।
দূরত্ব যে নক্ষত্রদের অসীম চেতনা
তবু হৃদয়ের কাছে তারা অতি নিকটে।
হয়তো কোনো এক গোপন জন্ম চক্রে
আমরা মানুষেরা ছিলাম একই দীপ্ত চিত্রকলা।
নক্ষত্র হ্যাঁ,নক্ষত্র মানে শুধু আলো নয়—
চির যাত্রার কোন এক দীর্ঘ আহ্বান
আকাশ জুড়ে লেখা থাকে
তোমার আমার আমার তোমার অস্তিত্বের গোপন গান। 🌌
