বাসুকি—নাগরাজ, নীল হলুদ অন্ধকারে দীপ্ত,
কুণ্ডলীতে জড়ানো শক্তি, প্রেম,অনন্তের স্রোত।
দেবতা-অসুরের যুদ্ধে দড়ি হয়ে উঠেছিলে,
ক্ষীরসাগর মন্থনে তোমার শ্বাসে উঠল ফেনা বিষ।
সেই বিষের আগুনে জ্বলে উঠল নীল কণ্ঠ,
শিবের করুণ করতলে চিৎকার করে নিলো আশ্রয়।
ত্যাগের ভারে দেহ তোমার কাঁপে তবু স্থির,
ছিলে কর্তব্যের কাছে নত ক্ষতবিক্ষত মুকুটহীন রাজা।
ফণার ছায়ায় জেগে উঠে বজ্রের ভাষা,
দু চোখে তীক্ষ্ণ সতর্কতা আর হৃদয়ে সংযম।
সাপ পথ চলে সময়ের কাঁটা স্থির কখনো অস্থির
সর্পিল সত্যে বাঁধা বিনিময় চার কালের বিশ্বচক্রও।
ভয়ের ভেতরেও বাসুকি চেনায় চেতনা আলো,
বিষকে বশ মানিয়ে রক্ষা করে চলো কত শত প্রাণ।
প্রাচীন কাহিনির গহনে তোমার শুভ নাম,
নীরব সাহসে সে লেখে যে ধর্মের পাঠ,শোনায় আবৃত্তি।
শক্তি মানে শুধুই আক্রমন আঘাত নয়,
শক্তি মানে বাঁধন, হাতে হাত রেখে সময় মতো থামা।
বাসুকি, তুমি সীমা ও সময়ের রক্ষক,
নীরব প্রহরী অনন্তের দ্বারের।
বাসুকি – তুমি অনুপম অতুলনীয়
বাসুকি তোমার তুলনা তুমি, কেবল তুমিই।

