মানুষ ও রাজনীতি (অংশ সাত)
এই স্বপ্ন-সংসদের গল্প এখনো শেষ হয়নি
আছে আরো কিছু প্রহর।
জ্ঞানের বন দেখেছ কখনো?
ভোরের আগে সংসদ কক্ষে হঠাৎ বন জন্মাল পুবে
টেবিলগুলো গাছ,
ময়লার ঝুরিগুলোগুলো ঝোপ,
মাইকগুলো লতা হয়ে উঠতে থাকলো
আর কাগজে পাখির পায়ের দাগ আলপনা হয়ে উঠলো।
জ্ঞান বলল —
আইন লেখা হয় কালি দিয়ে,
কিন্তু টিকে থাকে ভূমিতে যদি খড়া ও প্রবল বর্ষন না হয়।
এক বৃদ্ধ প্রতিনিধি পাতার শব্দ শুনে বোধী লাভ করলো
বুঝলো তার বক্তৃতা অপ্রয়োজনীয়;
কারণ বৃক্ষরা কখনো বিতর্ক করে না,
তবু সহাবস্থান শিখিয়ে আসছে লাখো কোটি বছর ধরে।
স্মৃতির বিচার
আজ আদালত বসেছে দক্ষিণে সময়ের ভেতর,
অতীত সাক্ষী, ভবিষ্যৎ বিচারক, সময় থেমে থাকে না।
যারা শঠ, প্রতিশ্রুতি ভেঙেছিল
তারা নিজেদের পুরোনো কণ্ঠ নিজেই শুনল—
শব্দগুলো ফিরে এসে
তাদের বর্তমানকে প্রশ্ন করে ছিলো মুহুর্তেই হলো গণধিকৃত।
শঠতা পালাতে চাইল,পারেনি
স্মৃতি দরজা বন্ধ করে দিলো শক্ত হাতে
কারণ ইতিহাসের তালা ভেতর থেকে খোলে
বাইরে থেকে নয়।
নদী মাছ মানুষের সাথে সাথে
এবং শহরের সব মানুষ জোটবদ্ধ হয়ে
সংসদের দিকে হাঁটতে লাগল—
আজ কোন দাবি নিয়ে নয়, নিজেদের নিয়ে,নিজেদের জন্য।
তারা ঢুকতেই মেঝে জল হয়ে গেল,
সবাই একই স্রোতের মাঝখানে দাঁড়াল।
মিত্রতা হাত ধরল শত্রুতার,
স্রোতে আলাদা থাকা যায় না যে কখনো;
সকলেই বুঝল, বিভাজন সে তো শুকনো জমির অভ্যাস।
ঘোষণা করল— মানবতা
যেখানে সবাই প্রবাহ, সেখানে কেউ আর বিরোধী নয়।
ক্ষমতার অবসর নেয়ার পালা
ক্ষমতা নিজের চেয়ারে বসে বসে ক্লান্ত, ক্ষমতা বলল —
আমি ক্লান্ত বৃদ্ধ নিজের ভরে ভারী হয়ে গেছি,অচল।
কেউ তার দন্ড তুলে
শিশুদের খেলনা ঘরে রাখল;
শিশুরা সেটাকে চক্র বানিয়ে ঘুরাতে লাগল,চালাতে থাকলো
মেঠো পথে।
ক্ষমতা এই প্রথম বার ওজনহীন হল,
তাকে আর কেউ পূজা করছিল না—
ব্যবহার করছিলো সূঁই, পেরেক ও কুলোর মত।
প্রেম ও রাষ্ট্র একে অপরের চাদর হতে পারে?
রাত গভীর হলে প্রেম আবার ঘরে ফিরল,
এইবার কোনো জলস্রোত নয়—একটি আয়না নিয়ে।
আয়না সংসদের মাঝখানে রাখল,
সবাই নিজের পেছনে অন্যদের দেখতে থাকল।
এক নেতা তার বিরোধীর চোখে
নিজের ভয় দেখ ছিল;
এক বিরোধী নেতার নীরবতায়
দেখছিল নিজের আকাঙ্ক্ষার বস্তা।
প্রেম বলল —
রাষ্ট্র মানে আমরা পরস্পরের সহকারী এখানে কেউ প্রধান নয়।
সূর্য উঠতেই ভবন আবার পাথর,
বন অদৃশ্য,সেই শুকনো নদী, কুয়ো সব কিছু আগেরই মত।
তবু কিছু বদলেছে—
মানুষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে,শ্বাস নিচ্ছে।
প্রতিশ্রুতিগুলো শোনানোর আগে চুপ করছে।
এবং রাজনীতি
ধীরে ধীরে পেশা থেকে সরে বোধ হয়ে উঠছে,
মানুষেরা, মানুষ থাকার চেষ্টা করছে।
শেষে সংসদের দেয়ালে কিছু অদৃশ্য অক্ষর ফুটে উঠল —
যে নিজেকে শাসন করতে জানে না
সে পৃথিবী শাসন করলে, পৃথিবী অস্থির হয়ে ওঠে।
আর যে নিজেকে বুঝেছে,
তার কাছে রাষ্ট্র কেবল একটি বিস্তৃত হৃদয় ও দিগন্তের নাম।
