মানুষ ও রাজনীতি (৮ম পর্ব )
প্রেমিক পুরুষ রক্তাক্ত পতাকার নিচেও প্রেম খুঁজে পায়।
রাতের শেষে সংসদ প্রাঙ্গণে ধোঁয়ার বেশে কুয়াশা নামে,
পতাকা ভিজে থাকে শিশিরে —
দূর থেকে মনে হয় কেউ যেন কাঁদছে নিরবে ব্যাথিত প্রমিকার মত।
আজ আর কোনো অধিবেশন নেই,
তবু চেয়ারে বসে আছে অজস্র প্রতিশ্রুতি,
তার কোলে মাথা রেখে, মৃত স্বপ্নেরা ঘুমাচ্ছে।
মানুষ ভোট দিতে এসেছিল উৎসব ভেবে ভেবে,
ফিরেছে তারা শোকযাত্রার সঙ্গী হয়ে;
কারণ,কালি শুকিয়ে গেলে
আঙুলে দাগ থাকে শুধু, ভরসা থাকে না,মমতাও উবে যায়।
বিরোধী বেঞ্চে অসহায় বসে ছিল প্রেম
কেউ তাকে আমন্ত্রণ জানায়নি অনাথ ভেবে
তবু সে এসেছিল—
কারণ মানুষ যেখানে যা ভাঙে,সেখানেই সটাই পুন জন্মায়।
এক নেতা বিপ্লবী বক্তৃতা দিতে গিয়ে থেমে গেল,
তার গলায় আটকে গেল জনতার কান্না;
শব্দ বেরোল না আর তার কন্ঠ থেকে কোন ভাবেই।
মিছিল,মিছিলের পথ
রাস্তা জুড়ে ছিলো কেবল চিৎকার স্লোগান,
কিন্তু ভেতরে ছিল শূন্যতা,
হাজার কণ্ঠ এক সাথে চিৎকার করে
কেউ নিজের নাম শুনতে পায় না।
এক অতীশপর বৃদ্ধ পোস্টার ছিঁড়তে ছিঁড়তে বলল—
এ জীবনে আমি শুধু একটু ন্যায় চেয়েছিলাম।
হায়! পোস্টারের আঠা তার আঙুলে লেগে রইল,
যেন অসম্পূর্ণ বিশ্বাস,
বৃদ্ধটি মিছিল দেখলে আজো ঘর থেকে পথে নেমে আসে।
শত্রু ও মিত্র
দুই বন্ধু দুই দলে দাঁড়িয়ে ছিলো
একজন লাল, অন্যজন সবুজ পতাকা ধরে।
শীলা বৃষ্টি এলে রঙ গলে গেল—হাত দুটো দেকে একই রঙের
তারা বুঝল তবে দেরিতে
রাজনীতি মতভেদ শেখায়,অথচ রাজনীতি
মানুষের মানুষ হওয়ার অনুশীলন হওয়ার কথা ছিলো
শত্রুতা জন্মায় স্লোগানে,মিত্রতা জন্মায় নীরবতায়।
রাষ্ট্রের স্বীকারোক্তি রাজসাক্ষী নিজেই নিজের
রাতে রাষ্ট্র নিজেই ডায়েরি লেখে—
আমি মানুষকে রক্ষা করতে জন্মে ছিলাম,
কিন্তু কখন যে তাদের থেকে দূরে ঠেলে দিলাম বুঝিনি।
এক সময় আইন তার চোখ মুছে দেয়,
কারণ অক্ষরও কখনো কঠোর হতে চায় না।
ক্ষমতা জানালার বাইরে দৃষ্টি দেয়
দেখে কোন এক মা তার সন্তানের অপেক্ষায়—
যে আর ফিরবে না আর কোনো এক সিদ্ধান্তের কারণে!
প্রেম সংসদে শেষবার দাঁড়াল—
এবার কোনো ভাষণ নয়, শুধু একটি প্রশ্ন:
যদি
মানুষই না থাকে ফিরে না আসে তবে জয় কাকে বলবো!
কেউ কোন উত্তর দিল না
কারণ প্রত্যেকে নিজের ভেতর শুনল
কিছু না কিছু হারানোর শব্দ।
ভোরে পতাকা শুকিয়ে গেল,
রঙ আবার উজ্জ্বল হবে কি?
কিন্তু মাটির নিচে,রয়ে গেল মানুষের স্বপ্ন আশা আকাংখা।
রাজনীতি চলতে থাকল,
কিন্তু কোথাও গভীরে গভীরে
প্রতিটি সিদ্ধান্তের আগে
একটি একটি করে বেদনা জন্মাতে লাগল।
সেই বেদনার নাম — রাজনীতি, মানুষ,মানুষের আাকাংখা।
