মানুষ মানে প্রশ্নের মতো জেগে থাকা সহস্র চোখ
মানুষ মানে প্রশ্নের মতো জেগে থাকা সহস্র চোখ,
মানুষ মানে ভাঙা স্বপ্ন জোড়া লাগানোর সুখ ও শোক।
মানুষ মানে হাসির ভেতর লুকোনো গভীর দীর্ঘশ্বাস,
মানুষ মানে অন্যের বেদনায় নীরব শক্ত বিশ্বাস।
মানুষ মানে পথে পথে পড়ে থাকা কাঁচ- আয়না,
নিজের মুখ জলে দেখে তবুও নিজেকে খুঁজে পায় না।
মানুষ মানে কোলাহল, হোক সুখের আহ্বান
মানুষ মানে হোক অন্ধকারে প্রদীপ জ্বালানো প্রাণ।
মানুষ মানে ক্ষুধার্তের পাশে ভাগ করা ভাত,
মানুষ মানে যুদ্ধ নয়, খোঁজা শান্তির হাত।
মানুষ মানে শক্ত হয়ে কাঁদতে শেখা মন,
মানুষ মানে হারিয়েও আবার হয়ে ওঠবে আপন।
মানুষ মানে সময়ের কাছে দায়বদ্ধ ঋণ,
মানুষ মানে স্মৃতির বুকে জমে থাকা অগনিত দিন।
মানুষ মানে কখনো প্রশ্ন করা বিধাাতর কাছে,
মানুষ মানে উত্তর খোঁজা মানুষের চোখের মাঝে।
মানুষ মানে নদীর মতো বদলে যাওয়া স্রোত,
মানুষ মানে ক্ষমার সমুদ্র নয় কেবল প্রতিশোধ।
মানুষ মানে একা হয়েও সকলের আত্মার সাথে,
মানুষ মানে আলো জ্বালা অন্যের অন্ধকারে,রাতে।
মানুষ মানে শেষ পর্যন্ত মায়া-ভালোবাসা শেখা,
মানুষ মানে মৃত্যুর আগেও আরো নয়া জীবনী লেখা।
মানুষ মানে অসম্পূর্ণ, তবু অনন্ত চেষ্টা, আজ্ঞা,
মানুষ—শব্দটা তৈরী তবে মানুষ মানে বড় প্রতিজ্ঞা।
মানুষ এক আশ্চর্য সেতু—মাটি আর আকাশের মাঝে,
অর্ধেক ধুলো,অর্ধেক স্বপ্ন—দু’দিকে টানে সকালসাজে।
মানুষ জানে সে ক্ষণস্থায়ী, তবু চায় চিরকাল,
মৃত্যুর কথা জেনেও গড়ে ভবিষ্যতের স্বপন জাল।
মানুষ এক আজব প্রশ্নচিহ্ন, নিজের অস্তিত্বে দাঁড়িয়ে
বলো, আমি কে? এই প্রশ্ন বয়ে চলে নিঃশব্দে কাঁদিয়ে।
মানুষ আলো চায়, কিন্তু আঁধারেই বাড়ে, বড় হয়,
ভুলের আগুনে পুড়ে ছাঁই হলে তার সত্যের জন্ম হয়।
মানুষ ভাঙে, মানুষ গড়ে—এই তার ধর্ম,
নিজেকে হারিয়ে সে সার্থক হয়, বুঝে নিজের মর্ম।
মানুষ কাঁদে একা একা একা, ভিড়ের মাঝখানে,
হাসির মুখোশ পরে নিজেকে লুকোয় গভীর বামে ডানে
মানুষ চায় কেউ তাকে বুঝুক, কিছু না বলে, না বুঝে
নীরবতার ভাষা বোঝে—এমন কেউ ভীাষণ ভাবে খুঁজে
মানুষ ক্ষমা বিদ্যা শেখে দেরিতে, রাগ অহংকার আগে,
তবু শেষ মেশ ক্ষমাতেই সে মুক্তি খুঁজে পায় যখন তার আত্মা আবার জাগে।
মানুষ শেষ নিশ্বাসেও স্নেহ মমতা ভালোবাসা চায়,
কারণ আদতে মানুষ—প্রেমে ডুবে থাকা মহা অধ্যাায়।
……
হায়!
মানুষ বলে—“আমি আছি”,
কিন্তু সে জানে না কে এই “আমি”।
তার দেহ বলে—আমি,
তার মন বলে—আমি,
তবু আত্মা নীরব থেকে সব দেখে যা।
মানুষ জন্ম নেয় নাম নিয়ে,
হারিয়ে যায় মরে যায় কোন নাম ছাড়াই—
মাঝখানে কেবল
ভুল করে, শিখে, আবার ভুল করে।
এই তো মানুষের জীবন।
মানুষ বাইরে কেন যেন বিধাতা খোঁজে,
মানুষের গভীরে, ভেতরে ঢুকতে ভয় পায়।
কারণ জানে ভেতরে ঢুকলে
সব মুখোশ খুলে পড়ে, যে মুখোশ মানুষেরই তৈরী
আর সেখানে কেউ আর ছোট নয়, বড় নয়।
মানুষ সুখ চায়,
কিন্তু সুখের ভার বইতে পারে না।
দুঃখ এলে কাঁদে,
দুঃখ গেলে তার মানে খোঁজে।
এই দ্বন্দ্বে গোলক ধাঁ ধাঁয় পরে থাকে মানুষ।
মানুষ জানে—সব ক্ষণস্থায়ী,
তবু আঁকড়ে ধরে।
জানে—সব ছেড়ে যেতে হবে,
তবু “আমার” বলে ডাকে।
এই মায়াই তার শ্বাস।
মানুষ আসলে এক যাত্রী,
নিজেকেই খুঁজতে খুঁজতে হাঁটে।
যে দিন বলে—আমি কিছুই নই
সেদিনই সে বোঝে—
সবকিছু, সব সে-ই।
