যেখানে আমি থামি
আহা! আমার শৈশব কেটেছে যেখানে,
সেখানে যমুনা ছিল—
ছিল ব্রহ্মপুত্র,
দুটি বিশাল নি:শ্বাসের মতো
আমাকে ও প্রকৃতিকে ঘিরে।
নদী আর নদের বুকে
সাঁতার কাটা বালক আমি,
জলই ছিল আমার প্রথম ভাষা,
ঢেউ ছিল আমার বিস্ময় ও খেলার সঙ্গী।
আর উপরে আকাশ
ভয়ের মানে জানতাম না,
কারণ নদী কখনো ভয় শেখায়নি—
শুধু শেখায়
ভেসে থেকেও বেঁচে থাকা যায়,
কতবার ভাসতে ভাসতে মরতে বসেছিলাম
তবুও নদ ও নদীকেই ভালোবাসি আমি।
আজ অনেক দূরে এসে
আমি থেমে যাই,
আর বুঝতে পারি—
আমার সাহসের শিকড়
এখনও ওই দুই নদীর মাঝেই দাঁড়িয়ে..
আমি নদী দেখলেই থামি
নদীর পার ধরেই নাকি গড়ে উঠেছিলো বসতি
প্রেম সুর সভ্যতা সঙ্গম হয়ে ছিলো বহু জাতির,
কেবল সুর নয় অনেক অসুরের আগমনও ঘটেছিলো
এই সব নদীর বুকের পথ ধরেই।
আজো আমি নদী দেখলে থামি
নদীর বুকে জল ঢেলে দেয় উচু উচু পাহাড়
হাজার হাজার মাইল দূর বহুদূর থেকে,
জল ছুটে আসে নদীর বুকে আছড়ে পরে
যেন পাাহাড় ও নদীর প্রেম ছিলো অযুত জনম ধরে।
