রঙের অন্তর্যজ্ঞ, আজ হোলি..
আজ হোলি
শুধু উৎসব নয়,লোকউৎসবও নয়
এ তো চেতনা আগুন রংঙের খেলা সাধনার যুক্তফল।
রঙের ভিতর সূর্য ওঠে,
ধুলোর ভিতর চন্দ্র ডুবে যায় ভোর হওয়ার আগেই
মানুষ মানুষকে ছুঁয়ে বলে—এ তুমি আমি নই, তবু আমি
আমরা রঙে ঐক্য গড়ে তুলি এসো।
মনে আছে প্রহ্লাদ হোলিকার কথা?
প্রথমে আগুন রং হয়ে জ্বলে উঠে ছিলো
হোলিকা দহনে
রাত্রির গায়ে দেখি অগ্নির লাল ধোঁয়ার অক্ষর।
দগ্ধ হয়,অহংকারের শুকনো ডাল,
ছাঁই হয়ে উড়ে যায় সকল ভয়।
শিশুরাও চেয়ে চেয়ে দেখে—
আগুনও কখনও প্রসব করে প্রভাত যদিও তারা প্রসব কি
তা বুঝে না,
অথচ, এ শিশুরাই ছিলো মায়ের সুখ বেদনার রঙের হোলি।
তারপর রঙ—
নীল, যেন
কৃষ্ণ
বাঁশির স্বর ও সুর হয়ে গলে পরছে আকাশে রোদের তাপে।
লাল, যেন
রাধা
হৃদয়ের গোপন স্পন্দন অনুরাগ কামনা মোক্ষ মুক্তির স্বাদ,
মনে হয় সবুজ রং যেন ঋষিদের তপোবন
আজ হোলি।
আমি যখন পড়ি—
ঋগ্বেদের মন্ত্র
আজ তা আবির হয়ে উড়ে যায়,
“একং সদ্ বিপ্রা বহুধা বদন্তি”—
এক সত্য, বহু রঙ।
হোলির রঙে তাই ছড়িয়ে পরে ধর্ম এক,
বিভেদ বহু, বহু, বহু বহু।
আজ হোলি
বৈদিক অগ্নিকুণ্ড আজ
রূপ নিয়েছে মানুষের কপালে,গালে চোখের পাতায়
নারীর প্রতিটি টিপ এক একটি যজ্ঞচিহ্ন,
আজ প্রতিটি হাসি এক একটি আহুতি যেন।
রঙের ভেতর হঠাৎ দেখি—
দেহ গলে যাচ্ছে,
মন গলে যাচ্ছে,
নাম গলে যাচ্ছে,
সব গলে যাচ্ছে, সব,
রয়ে যাচ্ছে কেবল স্পন্দন।
সে কি আত্মাগুলো?
না কি রঙের, রং হীন কোন অপ্রাকাশিত উন্মাদনা?
জানা নেই কারো।
আজ মাটি কন্ঠশক্তি পেয়ে বলছে—
“আমি ব্রহ্মের দেহ।”
জল দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়ে ইশারায় বলছে—
“আমি প্রাণের ছন্দ।”
বায়ু তো কথা বলেই সুর হয়ে,ঝড় হয়ে, সেও বলছে—
“আমি অনন্তের নিশ্বাস।”
হোলি কেবল এক উৎসব নয়—
এ এক উপনিষদীয় প্রশ্ন,
কে আমি?
এই রঙ যদি মুছে যায়
তখব যে শূন্যতা থাকে—
সেই কি পরম?
আমি পরম তুমি পরমা
কে এই পরমা ও পরম?
উত্তর খুঁজতে
এসো রংঙে মেখে চলে যাই গভীর বনে ঋষি হতে, চলো।
আমি রঙ মেখে মেখে দেখি—
আমার শত্রুও আজ রঙিন,
তার মুখেও রাম ধনুর সকল আলো।
বৈদিক দর্শন ফিসফিস করে শোনায়—
‘দ্বিতীয় নেই।’ আসলেই দ্বিতীয় কেউ নেই সাক্ষী সব ঋষিরা।
রাত্রি নামলে
সব রঙ মিশে যায় কালোতে,
কালোও রং,যদিও অনুপস্থিতি আলোর লোকমুখে তা শোনা।
সেই কালোই তো আদিম অন্ধকার!
হ্যাঁ, এই কালো যেখান থেকে জন্ম নেয় সৃষ্টি,সৃষ্টিও জন্মে
জন্মে খোদ ভগবানও, ভগবানের জন্ম হয় রংঙের ভিতর,
আজ হোলি।
হোলি আজ-
রঙের ছলে বিশুদ্ধ আত্মাগুলোর মহাযজ্ঞ।
আগুনে দাহ,
রঙে ঐক্য,
হাসিতে মুক্তি
রঙের ভিতরেই লুকিয়ে আছে চার লক্ষ্য।
মানুষ আজ ক্ষণিকের জন্য
ঋষি হয়ে যাবে—
কারণ সে ভুলে যাবে নিজেকে,
আর সেই ভুলেই
খুঁজে পাবে অনন্তকে…….
আজ হোলি, কিন্তু আমি আজ একা ঋষির মত
এখানে কেউ আমাকে চিনে না, আমাকে জানে না কেউ
কেবল কিছু ফুল গাছ, একটি বাতাবি লেবু
আর কয়েকটি আপেল গাছে বসা
এক ঝাঁক চড়ুই পাখি ছাড়া আমাকে কেউ চিনে না এখানে
আমি এক ঝাঁক চড়ুই পাখিদের সাথে হোলি উৎসব করছি।
আরো পড়তে এখানে ক্লিক করুন…..
