রাজনীতি ও মানুষ ( ২য় অংশ)
আজ রাত বারোটায় সংবিধান ঘুমিয়ে গেল,
দেখল — তার পাতাগুলো অমাবস্যার চাঁদের চামড়া।
ধারা ও অনুচ্ছেদ ডোবা খাল বিল নদীর মত সরে যাচ্ছে,
শুধু ন্যায়,ধর্ম শব্দটি স্থির পাইন গাছের মত পাহাড়ে দাড়িয়ে।
বিচারালয়ের হাতুড়ি পরছে না আর টেবিলে,
পরে মানুষের বুক ও বিবেকের ভেতর।
রায় ঘোষণার আগেই অপরাধ কেঁদে ওঠে —
কারণ মানুষ নয়,
মানুষের আত্মারা জনসভায় সাক্ষী দিতে শিখেছে আজ।
এক শিশু বিদ্যালয়ে মানচিত্র আঁকতে গিয়ে
কোন সীমানা রেখা টানল না —
সে শুধু নদী এঁকেছে,
একটি দীর্ঘ নদী হিমালয় থেকে সোজা এই বঙ্গোপসাগরে,
শিক্ষক বুঝল: বেশ, শিশুটি এখনো রাজনীতি শেখেনি।
প্রতিটি জনপদে কর আদায়ের রসিদে
একটি করে অদৃশ্য শ্লোক লেখা থাকে,
যদি তা অন্যায়ের হয়,অসুরের আগমন ঘটে
সংখ্যাগুলো সে রাতেই শূন্য হয়ে যায়।
ক্ষমতার চেয়ারে আসীন এক নেতা দেখল —
চেয়ারটি জলে উপর পদ্মফুলে ভাসছে,
আর সে বসে নেই,
সে ডুবে আছে নিজের অশুভ সকল আকাঙ্ক্ষায়।
ঋষিরা সংসদে যায় না কখনো,
তবু প্রতিটি নীরবতার মাঝে তারা বসে থাকেন
হট্টগোল বাড়লে
মন্ত্রগুলো উড়ে গিয়ে পাখি হয় ডালে ডালে বসে।
আজ নির্বাচন হল নীল আকাশে,
নক্ষত্ররা ভোট দিল আলেয়া ও আলোর পক্ষে।
অন্ধকার দাঁড়িয়েছিল বায়ে,বিরোধী দলে,
কিন্তু সূর্য ফলাফল ঘোষণার আগেই যে জিতে যায়।
প্রার্থীরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিলো —
আমরা স্বর্গ বানাবো।
পৃথিবী হাসল — মনে মনে বললো
আমি তো তোমাদের পরীক্ষা কেন্দ্র মাত্র।
এক সন্ন্যাসী ভোট দিতে এসে
নিজের নাম কেটে দিল তালিকা থেকে,
বলল — যে নিজেকে জিতেছে
সে কাকে হারাবে আজ? ভুল ভাঙ্গলো অনেকের।
রাজনীতি তখন আয়নায় তার মুখ দেখল —
দেখল সেখানে এখন আর কোনো ব্যক্তি নেই,
শুধু যুগের কর্মফল দাঁড়িয়ে আছে যেন
অসুর, মানুষ, প্রকৃতি, মায়ার ছদ্মবেশে ।
রাষ্ট্র যখন ধ্যান শিখল গেলো
সীমান্তগুলো শ্বাস নিতে শুরু করল আনায়েসে
সেনারা অস্ত্র রাখল মাটিতে —
মাটি তাদের কপালে চন্দন তিলক একেঁ দিল।
আইন তখন আদেশ নয়, এক উপলব্ধি —
কেউ মানে না, তবু সবাই পালন করে চলছে,
কারণ ভয়হীন, আজ মানুষের
শাস্তির প্রয়োজন নেই, মানুষেরা মানুষ হলে।
নদী, পাহাড়, বন, বৃক্ষ মিলে ঘোষণা করলো—
আমরাই প্রথম নাগরিক।
মানুষ বুঝল দেরিতে —
সংবিধান প্রকৃতির এক নকল পরিপত্র মাত্র।
শেষে এক বৃদ্ধ ঋষি এসে রাষ্ট্রকে বলল —
তুমি কোলাহল নও,ক্ষমতা নও, প্রবাহ;
যে দিন নিজেকে থামাবে
সে দিনই তুমি এক মহসাম্রাজ্যে পরিনত হবে।
রাষ্ট্র জিজ্ঞেস করল — তবে মুক্তি?
ঋষি বললেন —
যেখানে শাসন নেই, শুধু শৃঙ্খলা আছে —
সেখানেই সত্যিকারের রাজনীতি, মানুষের বসবাস,
মুক্তি সেখানে থেমে যায় আপন ইচ্ছায়।
রাষ্ট্রের স্বপ্ন শেষ হয় না, কারন?
ঋষিদের নীরবতা কখনো একটি ছোট কবিতায় ধরে না।
(চলবে)
