March 27, 2026 9:04 pm

Writer, Politician, Freethinker, Activist

March 27, 2026

Writer, Politician, Freethinker, Activist

আমরা কেবল নারীকে বিছানায় নিতে শিখেছি..

Spread the love

আমরা কেবল নারীকে বিছানায় নিতে শিখেছি..

আাগুন আর ধোঁয়ার ভেতর থেকে
একটি ঋচা উঠে আসে একদিন
যেন সে এক অচেনা নারীর কণ্ঠ,
যার পদচিহ্ন লুকিয়ে আছে বেদের মন্ত্রে মন্ত্রে।

সে বলতে চায়
কেবল আমি দেহ নই, আমি সৃষ্টি ও সুরের প্রথম তরঙ্গ।

নারী কেবল ইতিহাসের চরিত্র নয়,
নারী মন্ত্র,
নারী প্রশ্ন,
নারী উত্তর,
নারী যুদ্ধ,
নারী প্রেম,
নারী ব্রহ্মেরই প্রতিধ্বনি প্রতিবিম্ব হয়ে ওঠে কখনো গোপনে

যখন বাতাস ঝড়ের গতিতে বয়ে যায়
বেদ ও পুরানের পাতাগুলো উড়ে যায় আকাশে
সেখানে ছন্দের ভাঁজে খুঁজে পাই
প্রতিটি যুগে নারীই লিখে গেছে সৃষ্টির উপনিষদ সমগ্র।

ঋচাদের ভেতর নারী
সৃষ্টির আগে ছিল নীরবতা,অসীম শূন্যের গর্ভে নিঃশ্বাস
সেই নিঃশ্বাসের নাম ছিলো নারী।

হয়তো নারীই সেই শক্তি
যার ভিতর দিয়ে
সূর্য প্রথম জন্ম নিয়ে ছিলো একদিন আমরা তা জানি না।

ধূলোর পথ ধরে পথ চলতে চলতে
মৃত্তিকার মত শান্ত নারী
গুল্মলতা গাছের পাতা তার চুলে জড়িয়ে
ভেবে ছিলো প্রেম কখনও কখনও বনবাসও হয়।

আগুনে পোড়াতে পারে না নারীকে
তাই তো আগুনের পথে হাটলেও
আগুন তাকে বলে, তোমাকে তো পোড়াতে পারছি না!
কে তুমি সীতা?
সীতা হাসে উত্তর দেয় আমি নারী!
আমি সৃষ্ট, আমি সৃষ্টি, এবং আমি সৃষ্টি করি মানুষ এবং
আমি ধরণীর দীর্ঘশ্বাস।

এক দিন কোনো এক উপবনে
এক নারী আকাশের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়—
সে ছিলেো এক নারী গার্গী বাচক্নবী
তার প্রশ্নে কেঁপে ওঠে
উপনিষদের সকল শব্দ বাক্য অনুচ্ছেদ!
একেই বলে নারী।

আবার আর এক প্রাচীন কালে এক নারী
মৈত্রেয়ী
শূন্যে তীর ছুড়ে বলে
প্রেম যদি ব্রহ্ম হয়, তবে বিরহ নারী তার উপনিষদ।
তারপর
মহাকাশে খুলে যায় অদৃশ্য শত পদ্মের দুয়ার
সেখানে প্রতি ভোরে জেগে ওঠে অসংখ্য ভ্রুন!
হয়তো সে জন্য প্রথমে সব ভ্রুন নারীই থাকে নারীর উদরে
তারপর পুরুষ হয়ে ওঠে ধীরে ধীরে,কেউ হয়ে ওঠে ক্লীব।

নারী তখন
কেবল এক দেহ নয়—
নারী অনেক নদী হয়ে যায়,
নারী অনেক আকাশ হয়ে যায়,
নারী সাত সমূদ্র হয়ে যায়
নারী বারংবার অগ্নির প্রথম স্বপ্ন হয়ে দেখা দেয় তন্দ্রায়।

নারী সৃষ্টি আসলে
একটি প্রথম প্রেমের দীর্ঘ উপন্যাস
আর এর প্রতিটি প্রেম এক একটি দীর্ঘ বিরহের শ্লোক।

কারণ ব্রহ্ম নিজেও
প্রথমে ছিলো একা তাই তিনি সৃষ্টি করেন নারী,
নিজের হৃদয়ের
ভিতরেই হারিয়ে যাওয়া কোন কিছু খুঁজে পাওয়ার জন্য।
কি হারিয়ে গিয়েছিলো ব্রহ্মর?
কেউ তা জানে না
কোন শ্লোক ও মন্ত্রে প্রকাশ করেনি কোন ঋষি
শান্ত স্থির নিরব নির্বাক ঋষিরা
ব্রহ্মের আদি গোপন কথা প্রকাশ করতে চায় না
তাহলে হয়তো ঋষিদের তপোবন ছড়ে ফিরতে হবে গৃহে।

সৃষ্টিরও অযুত সময় আগে
যখন সময় তখনো জন্ম নেয়নি বিধাত্রীর কোলে
যখন আলো নিজের নাম লিখতে পড়তে জানত না,
নিজের ছবি দেখেনি সমূদ্রের জলে
তখন শূন্যের গর্ভে নিঃশব্দে শ্বাস নিচ্ছিল এক নারী নিভৃতে।

কেউ তাকে তখনও নাম দেয়নি—
তবু তার ছায়া ঘুরে বেড়াত বেদ সমগ্রের অদৃশ্য ঋচায়।
বলেছিল—
আমি অগ্নির আগে আগুন, আলোর আগে জন্মানো প্রদীপ
আমি নারী, জলের আগে জন্মানো এক তৃষ্ণা।

যার নিঃশ্বাসে জন্ম নিয়েছিলো সূর্য,
যার চুলের
বেণীর ভেতরে নক্ষত্রেরা খেলা করে উড়ে যায় অন্ধকারে
অন্ধকার, অন্ধকার যে নারী,
হয়তো আলো সৃষ্টি হয়ে ছিলো নারীর রুপ দেখার জন্যই।

হঠাৎ একদিন অরণ্যের ভিতর
বাতাসে কেঁপে ওঠে ধরণীর বেদনা হাঁটছে নীরবে কেউ
একজন সীতা রুপি নারী।

মাটি তার পায়ের কাছে এসে কাঁদতে থাকে
আমার মত পৃথিবীও জানে—
প্রেম কখনো কখনো বনবাসের দীর্ঘ উপনিষদ হয়ে যায়।

নারী কখনো হয়ে ওঠে নদী,
নারী কখনো হয়ে ওঠে চাঁদ,
নারী কখনো হয়ে ওঠে বৃষ্টির প্রথম কান্না।

নারী কখনো
সে যুদ্ধের দেবী দূর্গা,
অসুরের বুকে বজ্রের মতো নেমে আসে
কখনো মূন্ডু মালা পরিহিতা কালী
কখনো ব্রহ্মর কন্য
নদী, জ্ঞান সঙ্গীত ও কবিতার দেবী স্বরস্বতী
কখনো নারী ধন সম্পদ সমৃদ্ধির দেবী লক্ষী।

নারী সে কখনো দেবাদিদেব মহাদেবের ঘরনী
নারী কখনো সে মা, কখনো কন্যা, কখনো মায়া
নারী, কখনো সে হয়ে ওঠে একটি সন্ধ্যার দীপশিখা।

এ মহাবিশ্ব,ছায়াপথ, গ্রহ,
হয়তো কোন এক নারীর স্বপ্ন,
আর প্রতিটি নক্ষত্র তার হৃদয়ের ভাঙা প্রেমপত্র হয়তো।

হয়তো একদিন ব্রহ্ম নিজেই
নিজের নিঃসঙ্গতা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে
সৃষ্টি করেছিল নারী, নিজেকে ভালোবাসতে শেখার জন্য।

নারী দেবী হলে সংসার সুরক্ষিত হতো
নারী দেবী হলে ঘর হয়ে ওঠে মন্দির, মন্দির হয়ে উঠে ঘর
নারীকে মায়া হতে দিলে সমাজ হয়ে উঠতো এক অভয়ারণ্য
আমি নারীকে না দেবী হয়ে উঠতে দিয়েছি, না মায়া!
আমরা,কেবল নারীকে বিছানায় নিতে শিখেছি রমনের জন্য

 

আরো পড়তে এখানে ক্লিক করুন…..


Spread the love
Tags :

Grid News

Latest Post

Find Us on Youtube