Novella বা উপন্যাসিকাও বলতে পারেন। উপন্যাসিকা হলো গল্পের চেয়ে বড় উপন্যাসের চেয়ে ছোট। ৬৪ পৃষ্ঠার ‘ফেইথ মোবাইল’ নামে লেখক উপন্যাসিকা লিখেছেন।
সমাজ, রাষ্ট্র, শাসক, মৌলবাদী গোষ্ঠী, রক্ষনশীল মানুষেরা সব সময়ই প্রশ্ন ও চিন্তাকে ভয় পেয়েছে, পাবেও। কিন্তু এ আধুনিক যুগে যদি বই বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানও ভয় পায়। তাহলে লেখক ও পাঠাকের বিপদ আরো বাড়ে। সে রকমই কিছু ঘটেছে।
উপন্যাসিকার লেখক নাফিস সাদিক শাতিলের সাথে। নাফিস সাদিক শাতিল কোন ধর্মকে আক্রমন করেননি। ইসলাম ধর্মের সাথে যায় এমন কোন শব্দ পর্যন্ত উচ্চারণ করেননি। তবুও তার গ্রন্থটি অনলাইন বই বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ‘রকমারি ডট কম’ তাদের বিক্রয় তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। কোন রকমারি? যার মালিক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে, মৌলবাদ ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ সহ, জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে তদন্ত কমিটি পর্যন্ত হয়েছিলো। রহস্যজনক কারনে খোদ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও সে তদন্ত আর প্রকাশ্য আসেনি।
রকমারি ডট কমের মালিকের কোচিং সেন্টারগুলো নিয়েও অনেক অভিযোগ রয়েছে। তার পরিচালিত কোচিং সেন্টারে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী, মুক্তচিন্তা বিরোধী জজবা ছড়ানো হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। সেই সাথে কোচিং সেন্টারটির বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের হোতাদের সাথেও সংযোগ রয়েছে বলে মনে করা হয়। আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় রকমারি ডট কমের মালিক জামায়াত শিবির তথা স্বাধীনতা বিরোধীদোর এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে চলেছে দেড় যুগ ধরেই। এমন শক্ত অভিযোগেও অভিযুক্ত।
এসব সন্দেহ ও অভিযোগ।।রকমারি ডটকমের এসব নিয়ে আলোচনা বড় করতে চাই না।
আমাদের আলোচনার বিষয়, ফেইথ মোবাইল উপন্যাসিকাটি কোন নিষিদ্ধ গ্রন্থ নয়। কেউ কোন প্রকার অভিযোগও করেনি। তাহলে এ গ্রন্থটি রকমারি ডট কম কেন বাজার থেকে তুলে নিলো? প্রশ্নটা এখানেই। উপন্যাসিকাটিতে আটটি অধ্যায় রয়েছে। প্রধান চরিত্র তিনটি। রায়ান, আংকেল জর্জ ও সারাহ। একটি ভ্রমন কাহিনী দিয়ে শুরু ভ্রমন ভ্রমন কাহিনী দিয়েই শেষ।
এমনকি কাহিনীতে এ উপমহাদেশে তো দুরের কথা। লেখক তার উপন্যাসিকার কাহিনী এশিয়া মহাদেশেও রাখেননি। লেখকের স্থাননির্বাচনের বুদ্ধিমত্তাক প্রশংসা না করে পারা যায় না৷ তিনি তার মাতৃভূমি বাংলাদেশ বা এশিয়াতে নয়। কাহিনী সোজা টেনে নিয়ে গেছেন নর্থ আমেরিকায়! আমি যতদূর জানি লেখক নর্থ আমেরিকায় জাননি। তবে এ গ্রন্থে এমন ভাবে তুলে ধরেছেন যেন লেখক আংকেল জর্জ, রায়ান ও ভূতত্ব বিদ্যার ছাত্রী সারাহ সাথেই নর্থ আমেরিকা ভ্রমন করছেন। অসাধারণ বর্ননা। সাধারণ গল্পে কোন কিছু বলা আর বিজ্ঞান ভুতত্ব সাথে যুক্ত করা সুকঠিন। এই সুকঠিন কাজটাই এখানে সুচারু রুপে সম্পন্ন করেছেন, ‘ফেইথ মোবাইল’এর লেখক নাফিস সাদিক শাতিল। এটাই একজন লেখকের সার্থকতা।
রায়ান তার আংকেল জর্জকে প্রশ্নের বানে জর্জরিত করেন। তার প্রাচীন বিশ্বাসের ভিতকে কাঁপিয়ে তুলেন। মাঝ পথে অচেনা সারাহ তাদের ভ্রমন সঙ্গী হয়। আংকেল জর্জকে, রায়ান বলে, কি অদ্ভুত জিপিএস ছিলো না। কিন্তু এক সময় মানুষেরা ধ্রুব তারা দেখে কি পাহাড়, কি সমতল, কি জলপথে দিক নির্নয় করতো। এ ছাড়া বহু প্রশ্ন তর্ক বিতর্কে তাদের ভ্রমন শেষ হয়। ভ্রমনে, প্রশ্ন, চিন্তা, ভুগোল বিজ্ঞানের ছড়াছড়ি। লেখক, তার উপন্যাসিকায় চমৎকার ভাবে উপস্থাপন করেছে। লেখক তার চিন্তাগুলো বিভিন্ন চরিত্রে কখনো ইশারায় কখনো সরাসরি পাঠকের সামনে এনেছে। এ উপন্যাসিকা সফল ভাবে পাঠকের চিন্তায় আঘাত করে। নতুন নতুন প্রশ্ন এমনকি উত্তরের সন্ধানে ভাবুক হতে বাধ্য করে।
আর তা মৌলবাদী শক্তি, গোষ্ঠি, শাসক, সমাজ, রাষ্ট্রের অপছন্দ। তেমনি অনলাইন বই বিক্রয়কারী প্রতিঠান রকমারি ডক কমেরও পছন্দ নয়। কারন, রকমারি ডটকমও প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে।
নাফিস সাদিক শাতিল নাম দেখেই তার বই বাজার থেকে বিদায় করে দিতে চায় রকমারি ডটকম। কারন, নাফিস সাদিক শাতিল প্রগতিশীল মানুষ। বাংলাদেশের মৌলবাদী গোষ্ঠি তার বিরুদ্ধে সোচ্চার। বাংলাদেশের মুসলিম মৌলবাদী গোষ্ঠি লেখককে দেশ থেকে বিতারিত করেছে। লেখক মুসলিম মৌলবাদী গোষ্ঠী ভয়ে। বিদেশে আত্মগোপনে থেকে তার মুক্তবুদ্ধিচর্চার আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। যাবেনও। আমি বারবার বলি বাংলাদেশের মুক্তচিন্তকেরা হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু। তাদের জীবন ও জীবীকার সব সময়ই ঝুঁকির মধ্যে থাকে। তাদের কোন লেখা পত্রিকা ছাপে না।
তাদের বই প্রকাশকেরা ছাপতে ভয় পান। তার উপর কিছু প্রকাশক ও প্রকাশনা,সংস্থা সাহস করে ছাপেন। তা বাজারজাত করতে বাধা দেয়া হয়। তার জলন্ত দৃষ্টান্ত লেখক নাফিস সাদিক শাতিল ও তার গ্রন্থ ‘ফেইথ মোবাইল’ গ্রন্থটি রকমারি ডটকমের বিক্রয় তালিকা থেকে বাদ দেয়ার তীব্র নিন্দা জানাই। অবশ্য যুগে যুগেই পৃথিবীতে বিজ্ঞানের আবিস্কার ও লেখকের চিন্তাকে গায়েব করে দেয়া হচ্ছে। এখন হয়। উপন্যাসিকা ফেইথ মোবাইলের বহুল প্রচার কামনা করছি।

আরো ব্লগপোস্ট পড়তে এখানে ক্লিক করুন…..
