July 17, 2026 9:35 pm

Writer, Politician, Freethinker, Activist

July 17, 2026

Writer, Politician, Freethinker, Activist

বন্ধুকে বেশি বিশ্বাস করো না,বাঘ মারতে শত্রুকে পাঠাও।

Spread the love

প্রবাদে আছে বাঘ মারতে শত্রুকে পাঠাও। খাঁটি বাংলা প্রবাদ এটা। ধারনা করা হয় সুন্দরবনকে ঘিরে এ প্রবাদের উৎপত্তি। অর্থাৎ শত্রু ও প্রতিপক্ষকে ব্যবহার করতে হয়। এ কথাটা বইয়ে পড়ার আগে আমি গ্রাম বাংলার অশিক্ষিত মানুষের মুখে শুনেছি। অশিক্ষিত মানুষ মানেই মূর্খ এ কথা সত্য নয়। যারা বেদ মুখস্ত রাখতো তারা অধিকাংশই লিখতে জানতো না, বা লিখে রাখতো না। যে কারনে বেদের অপর নাম শ্রুতি। বেদ মানে জ্ঞানও। ঋগ্ববেদ পৃথিবীর প্রথম লিখিত গ্রন্থ। যা হাজার হাজার বছর ধরে ভারত বর্ষের মানুষের মুখে মুখে চলে এসেছিলো। প্রফেট মুহাম্মদও তার সঙ্গীরাও পড়তে জানতো না। কিন্তু তারা ব্যবসা ও যুদ্ধ বিদ্যায় ছিলো পারাদর্শী। এ জন্য তাদের বই পড়তে হয়নি। তারা আরবরা ভারতবর্ষের সিন্ধ থেকে ইউরোপের স্পেন পর্যন্ত দখল করে ছিলো। দুনিয়ার যত জায়গায় আরবরা দখলদারিত্ব বজায় রেখেছিলো সব জায়গায় তাদের উপস্থিতি আছে। পোশাকে, খাদ্যে, চেহারায়, আচরণে। কেবল স্পেন থেকে তাদের বিতাড়িত হয়েছিলো। স্পেনিশরা আরবদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধ ঘোষনা করে। এবং সমূলে উচ্ছেদ করে আরবদের। আরবরা পড়তে জানতো না মানে মূর্খ ছিলো না। আমি অনেক শিক্ষিত মানুষ দেখেছি তারা মহামূর্খ। আরবের মেলাগুলোতে তখন কবি ও পন্ডিত ব্যাক্তিরা উপস্থিত থাকতেন। বুদ্ধিমানেরা শুনে শুনে তা মনে রাখতেন। দেখবেন ভারতে আজো শের শায়রীর অনুষ্ঠান হয়। সেখানে অনেক মানুষ উপস্থিত হয়। অতিথি কবিদের লাখ লাখ টাকা পারিশ্রমিক দেয়া হয়। সেই কবিরা কেবল বিনোদন দেন না, জ্ঞানের কথাও থাকে সে সব আসরে। মুহাম্মদ নিজেও তার কথা ও কোরানের বাণী লিখতে নিষেধ করে ছিলেন। গ্রীক মহাপন্ডিত সক্রেটিসও কোন গ্রন্থ লিখে যাননি। অথচ তাকে জ্ঞানের জনক বলা হয়।
আমি বলতো চয়েছি লিখতে পড়তে না জানা সকলেই মূর্খ হয় না৷ এই যে গ্রামের অশিক্ষিত মানুষ এমন অনেক কথা বলেন তা যে ঘুরিয়ে পেচিয়ে গ্রন্থে লেখা আছে। তা তারাও জানে না। তারা কখনো গ্রন্থ পড়েনি। পড়বে কি করে তারা তো পড়তে শিখেনি বিদ্যালয়ে যায়নি। এই অশিক্ষিত মানুষগুলো কেউ কেউ বিদ্যালয়ে যায়নি অর্থ ও বিদ্যালয়ের অভাবে। কেউ কেউ যায়নি স্বাভাবে। তারা ভাবতেন পড়ে কি হবে। চাকরি করবো কেন? বাপ দাদার কি জমি ও গরু-মিস ভেড়া কম আছে! গরু ও জমি ছিলো একদা ধন ও সমৃদ্ধির প্রতীক। শিল্প কারখানার ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয়। ইউরোপ থেকে এশিয়াতে এসেছে অনেক পরে। চাকরি করে চাকরই! এমন ভাবনা এখনো অনেক মানুষের আছে। আমার স্পষ্ট মনে নিদৃষ্ট কিছু সরকারি পদবীর লোকজন ছাড়া কারো কাছে কেউ মেয়ে বিয়ে দিতে চাইতো না। দেশে সরকারী চাকুরের ঘুষ দূর্নীত ক্ষমতার অপব্যাবহার বেড়ে যাওয়ার পর। পাত্র হিসেবে সরকারী চাকুরিজীবীদের কদর বেড়ে গেছে। আশির দশকের প্রগতিশীল ছাত্রদের দেয়া একটা শ্লোগান বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে ছিলো। “পুলিশ তুমি যতই মারো /বেতন তোমার তিনশ বার!” তিনশত ১২ টাকার বেসিকে কিভাবে সংসার চালাবে? তাদের কাছে কেউ মেয়ে বিয়ে দিতে চাইতো না। এমন কি সাধারন সৈনিকের কাছেও মেয়ে বিয়ে দিতে চাইতো না অনেকে। এখন তো পুলিশ ও সৈনিকের কাছে যৌতুক দিয়ে মেয়ে বিয়ে দেয়। তবে আজকের বিজিবি সেই সময়ে বিডিআরের নিকট মেয়ে বিয়ে দিতো। কারন তাদের চোরাকারবারির থেকে ঘুষ নেয়ার সুযোগ পুলিশের চেয়ে বেশি ছিলো।

শুরুতে যে কথা লিখেছি আজকের আলোচনা সে বাক্যটাকে ঘিরেই। বাঘ মারতে শত্রুকে পাঠাও। এ কথা আমার গ্রামের অশিক্ষিত মূর্খ লোকের কথা নয়। এটা জ্ঞানের কথা, কূটনীতির কথা। যা সাড়া পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন রুপে। তা যেমন আছে ম্যাকিয়াভ্যালির প্রিন্স গ্রন্থে। তেমনি লেখা আছে, রবার্ট গ্রীনের, দ্য 48 লজ অব পাওয়ার গ্রন্থে। তেমনি তা তিন হাজার বছর আগে চাণক্যের লেখাতেও পাওয়া যায়। তারও আগে চীনা সমরবিদ সান জু তা বলে গেছেন তার দ্য আর্ট অব ওয়ার গ্রন্থে।

আমি আগে তা কথিত মূর্খ অশিক্ষিত লোকদের মুখে শুনেছি। পরে সান জু, চানক্য,ম্যাকিয়াভিলি, রবার্ট গ্রীনের বইয়ে পড়েছি। কি অদ্ভুত! সাড়ে তিন হাজার বছর আগের চায়না সমরবিদ, মৌর্যযুগের পাটালি পুত্র তথা পাটনার রাজদরবারের মহামন্ত্রী চাণক্যের কথা, ১হাজার বছর আগের ইতালির নিকোলো ম্যাকিয়াভেলির প্রিন্সের কথা, ৭০ বছর আগের জন্ম মার্কিন রবার্ট গ্রীনের কথা।  জামালপুর জেলার, সরিষাবাড়ি উপজেলার শিমলা বাজার,রামনগর,পিংগনা, ভাটারা, বাউসি, বয়ড়া বাজারে প্রচলিত! নদীর ঘাটে,স্টেশনেও এমন পন্ডিত ব্যাক্তিদের কথা বাতাতে ভেসে বেড়ায়। কার কথা সাধারনের বলছে তার নামও জানে না। ভাবা যায়? গল্প ও জ্ঞান, যু্দ্ধ ও সৌন্দর্যের কথা কোন না কোন ভাবে সাড়া পৃথিবীতে ছড়িয়ে পরে, পরবেই। আমার কানেও পৌছেছে যখন আমি এসব বুঝি নি।

তারপর পড়ে জেনে আরো জানার ও বুঝার চেষ্টা করেছি। কি করে, কেন বাঘ মারতে শত্রুকে পাঠাতে হয়।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল বিএনপি তা করে। জামায়াত ইসলামি এটা করে,করে চলছে। যেমন, বিএনপি, কোন ব্যাক্তির সাথে বিরোধ থাকলেও দলে টেনে নেয়। বিএনপিতে পাকিস্তান পন্থীরা তাদের পুরোনো বন্ধু। কিন্তু অনেক আওয়ামী লীগ,ছাত্রলীগ ও বাম নেতাদের দলে ভিড়িয়েছে। কারন কী? কারন ঐ একটাই বাঘ মারতে শত্রুকে পাঠাতে হবে। সাড়া দুনিয়ায় এ তত্ত্বটা ভীষন কার্যকরী। বাংলাদেশের জামায়াত ইসলামি নামের দলটি, মুক্তিযোদ্ধাদের তাদের দলে ডেকে নেয় একই কারনে। বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা মওদুদিবাদী জামতে ইসলামের পুরোনো শত্রু। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারাই তাদের পরাজিত করেছে। তারপর তারা কোন মুক্তিযোদ্ধাকে পেলে জামাই আদর করে দলে টেনে নেয়। কারন জামাতিরা জানে, জামায়াতে বিএনপিতে যোগ দেয়া একজন মুক্তিযোদ্ধা, আওয়ামী লীগের ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার যত ক্ষতি করতে পারবে। হাজারো জামায়াত বিএনপির নেতারা সেই ক্ষতি করতে পারবে না।.

শুধু যে বাংলাদেশেই এমনটা চলে তা কিন্তু নয়৷ রাশিয়া জানে তুরস্ক মার্কিন বলয়ের, তবুও তার সাথে সম্পর্ক রাখে। আবার আমেরিকা জানে পাকিস্তান ও পাকিস্তানী মুসলিমরা তাদের বন্ধু নয়। তারা আমেরিকার সঙ্গী হয়ে যুদ্ধও করে আবার আমেরিকার শত্রু ওসামা বিন লাদেনকেউ জায়গা দেয়। কিন্তু আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত রুশ বাহিনী তাড়াতে এই পাকিস্তান ও মুসলমানদের লেলিয়ে দেয়।মানে সেই প্রবাদটাই বাঘ মারতে শত্রুকে পাঠানো। এবং এ বিষয়ে শত ভাগের উপর সফলতা পেয়েছিলো আমেরিকা। রুশদের কেবল কাবুল ছাড়া করেনি, রুশরা কাবুল ছাড়ার পর সোভিয়েত ইউনিয়নকেও ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে ফেলে।

আবার ভারতও জানে আফগানিস্তান ও মুসলমান ভারতের বন্ধু নয়। তার উপর সে ভারতের পরীক্ষিত বন্ধু রুশদের শত্রু ছিলো। তবুও দিল্লি, কাবুলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করলো বা বন্ধু বানালো রাষ্ট্রীয় ভাবে স্বীকৃতি না দিয়েও। কারন ঐ যে, বাঘ মারতে শত্রুকে পাঠাতে হয়৷ তাই এখন দেখছেন পাকিস্তান ও আফগানিস্তান অঘোষিত যুদ্ধ। আগে কাবুলের এ যুদ্ধটা ছিলো রাশিয়ার সাথে আমেরিকার ছায়া যুদ্ধ। এখন মাঝখানে সেই কাবুলই,আর দুই দিকে দিল্লি ও লাহোর। ছায়া যুদ্ধ চলছে, পর্দার আড়ালে আমেরিকাও রয়েছে। চীন ঢুকে গেছে। কাবুলেও ঢুকে গেছে রাশিয়া, কাবুলও রাশিয়ার পুরোনো শত্রু! কারন ঐ একটাই, বাঘ মারতে শত্রুকে বন্ধুতে পরিনত কর,তাদের সামনে রাখ৷ এবার তাই রাশিয়া তার পুরোনো শত্রু আফগানিস্তানকে দিয়েই আমেরিকাকে তটস্থ রাখতে চাইছে। ইউক্রেনও একদা সোভিয়েত ইউনিয়নের ছিলো। সেই পুরোনো শত্রুর অংশ বিশেষ ইউক্রেনকে দিয়েই রাশিয়াকে যুদ্ধে ময়দানে ব্যাতিব্যস্ত রেখেছে আমেরিকা।
রবার্ট গ্রীন লিখেছে বন্ধুর চেয়ে শত্রুকে বেশি বিশ্বাস করতে। কারন শত্রুকে তার কাজকর্ম দিয়ে প্রতিনিয়ত প্রমান করতে হয় যে, সে আপনার প্রতি অনুগত ও পক্ষের। আপনার বন্ধুর তা করতে হয় না। আপনার পুরোনো শত্রু আপনার সাফল্যে ইর্ষান্বিত হবে না। বরং সে চাইবে আপনি আরো উন্নতি করুন, সফল হোন। সে আপানর জয়ে খুশি হবে বড় জোড় সে আপানার উন্নয়নের সারথী দাবী করবে হিংসা করবে না। কিন্তু আপনার বন্ধু তা করবে৷ সে জন্য রবার্ট গ্রীন তার শক্তি বা শক্তি ও ক্ষমতার ৪৮ টি সুত্রের ২য় নম্বরেই, বন্ধু থেকে খুব সতর্ক থাকতে বলেছে শত্রুর থেকে নয়। বরং শত্রুকে বন্ধু বানিয়ে কি করে কাজ বাগিয়ে নেয়া যায় তা শিখতে বলেছে, করতে বলেছে।

আরবের প্রফেট মুহাম্মদ কি করেছিলো? তার সকল শত্রুদেরকে বন্ধু বানিয়ে,সাথী বানিয়ে, তাদের দিয়ে যুদ্ধ করিয়েছে। যুদ্ধের পর যুদ্ধ জয় করেছে। সাহাবী মানে হলো,সঙ্গী,বন্ধু, সাথি। আপনার পুরোনো শত্রু আপনার বন্ধুর চেয়ে বেশি উপকারী যুদ্ধে ময়দানে ও কূটনৈতিতে। কারন, আপনার পুরোনো শত্রু আপনার সমস্যা আপনার বন্ধুর থেকে বেশি বুঝে। এবং আপনার শত্রুর ঘরের খবর অনেক বেশি জানে। যুদ্ধে ও কূটনীতিতে প্রতিপক্ষের খবর যত বেশি জানবেন। সে যুদ্ধে আপনার জয়ী হওয়ার সম্ভবনা তত বেশি বৃদ্ধি পাবে। এসব আমি বলিনি, আমি অত বড় পন্ডিত নই। এসব বলেছেন, সান জু, চাণক্য, ম্যাকিয়াভ্যালি, রাবার্ট গ্রীন। আর বলতো গ্রামের সেই বয়স্ক অশিক্ষিত মানুষগুলো।

রামায়নেও তাই ঘটেছে রাবণের ভাই বিভিষন না হলে রাজা দশরথের জৈষ্ঠ পুত্র রামচন্দ্রের লঙ্কা জয় এত সহজ হতো না। বা বিজয়ই পেতো না। আমরা মহাভারতে যুযুৎসুকেও দেখেছি পান্ডবদের পক্ষ নিতে।
এমন কি আপনি হাল আমলে, বাংলাদেশে ডক্টর ইউনুসের ইন্টারিম সরকারের দিকে তাকান একজন ব্যাতিত কেউ মুসলিম মৌলবাদী শক্তির ছিলো না। তাদের চেহারা অতিত ইতিহাস তা বলে না। কিন্তু বাংলাদেশের মুসলিম মৌলবাদী গোষ্ঠী তাদের দিয়েই সকল কাজ করিয়ে নিয়েছে, এখনো নিচ্ছে। অর্থাৎ শত্রুকে দিয়েই বাঘা শিকার করে নিয়েছে মুসলিম মৌলবাদী গোষ্ঠী ও তাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রগুলো। যারা ইন্টারিম সরকারে ছিলো,তারা একজন বাদে কেউ ৫ ওয়াক্ত নমাজ আদায় করা তো দুরের কথা। শুক্রবারে মসজিদে যেতো কি না সন্দেহ আছে। ইন্টারিম সরকার প্রধান ডক্টর ইউনুস তো মাথায় টুপিই দিলো সরকার প্রধান হয়ে। একেই বলে শত্রু দিয়ে বাঘ শিকার করা। যার কারনে বাংলাদেশে আজ স্বাধীনতা বিরোধী ও মুসলিম মৌলবাদী শক্তি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে। কেউ কেউ ভাবছে কাগজ পত্রে বিএনপি সরকার পরিচালনায় থাকলেও। বাস্তবে দেশে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী, উগ্রবাদী মুসলিম দল জামায়াত ইসলামি।

বাঘ মারতে শত্রু পাঠাও। এ তত্ত্ব ভারত কেবল বিদেশেই ব্যবহার করে না। পাকিস্তানও করে চলছে আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশে। তারা প্রায় ৭৪/ ৭৫ বছর কাশ্মীরে ভারতের সাথে যুদ্ধে ও মুসলিম জঙ্গিদের দিয়ে ছায়া যুদ্ধেও না পেরে উঠে। এখন বাংলাদেশকে দিয়ে ভারতের সাথে যুদ্ধ ও ছায়া যুদ্ধ করাতে চাচ্ছে। এ যুদ্ধে ভারত হারলে তো পাকিস্তানের জন্য তা সোনায় সোহাগা। আর যদি বাংলাদেশ হারে তবুও তার লাভ। পাকিস্তান তার পুরোনো শত্রু স্বাধীন বাংলাদেশকে দিয়ে তারা তাদের মহাশত্রু ভারতকে যুদ্ধের মুখোমুখি করে ৭১ এর প্রতিশোধ নিতে চায়। বাঘ শিকার হবে না হয় পুরোনো শত্রু বাংলাদেশ বাঘের পেটে যাবে। এই হলো তাদের ইরাদা। পাকিস্তানও তার পুরোনো শত্রু বাংলাদেশ ব্যবহার করা শিখে গেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদার দাশ মোদী এ বিষয়ে আরো বড় ওস্তাদ। সাথে রয়েছে রাজনীতিক অমিশ শাহ ও অজিত দোভাল, এস জয় শংকরের মত আমলা কূটনীতিক।
তারা দেশের বাইরে যেমন ভিতরেও তেমনি বাঘ মারতে শত্রুকে সম্মুখ সমরে রাখে।
যেমন, পশ্চিমবঙ্গে তৃনমূলের উত্থান। মনে হয় এটা বিজেপিই চেয়েছিলো। কারন, বিপেজি যখন কোন ভাবেও বামদের সাথে পেরে উঠছিলো না। তখন তৃনমুল আসাতে বিজেপি এক প্রকার খুশি হয়ে ছিলো। কারন, কোলকাতার বামেরা বিভ্রান্ত হলেও তারা আদর্শিক রাজনীতি করে। তৃনমুল আদর্শহীন একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল। শ্রেফ ক্ষমতার জন্য লড়াই করবে তৃনমুল এটা বিজেপি ও আরএসএস তা জানতো। তারা জানতো আজ হোক বা কাল মমতা ব্যানার্জির তৃণমূলকে উচ্ছেদ করা যাবে। এবং তাইই ঘটেছে৷ সত্যি সত্যিই ২০২৬ এ সালে তৃনমূলকে উচ্ছেদ করে বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায়। যদিও সফরটা দীর্ঘ ১৫ বছরের। তামিলনাডুতেও বিজয় থালা পতির উত্থানও একদিন বিজেপিকে রাজ্যে ক্ষমতায় আনলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। হয়তো ভিতরে ভিতরে বিজেপি কাজ করেছে ডিএমকে ও এডিমকের মত শক্তিশালি দলকে ক্ষমতাচূত্য করাতে। বিজেপি কেবল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ক্ষমতাই দখল করেনি৷ তৃনমুল কে একেবারে ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছে। এখানেই শেষ নয় রাজ্যের মুখ্যামন্ত্রী আজ মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী। তিনি কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন করেছেন। তৃনমূলের নেতা ও মন্ত্রী ছিলেন৷ অনেক পোড় খাওয়া মানুষ। মমতা ব্যানার্জি ক্ষমতায় থাকতেই তিনি দল থেকে বেড় হয়ে নির্বাচনে জিতেছেন৷ ঐ যে ঐ কথাই বাঘ মারতে শত্রুকে পাঠাও। তৃনমূলের ঘর ভেঙ্গে চুরমার করে দেবেন তিনি, এটা বিজেপি জানতো৷ তাই শত্রুকে বন্ধু বানাও, পুরোনো শত্রুকে ব্যবহার করতে শেখো শত্রুকে ঘায়েল করতে। যা রবার্ট গ্রীনের লেখা ক্ষমতা ও শক্তির খেলায় জেতার ২য় সুত্রে রেখেছেন।

আপনি বিহারের দিকে তাকান বিজেপি আসন বেশি পেয়েও মুখ্য মন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিলো। আসামের দিকে তাকান গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠজন ও সাবেক কংগ্রেস নেতা,মন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বাস শর্মাকে দিয়ে আসাম জয় করে নিলো বিজেপি। সুত্র ঐ একটাই শত্রুকে বন্ধু বানাও, ব্যবহার করতে শিখো। রাজনীতিতে কূটনীতিতে শত্রুকে বন্ধু বানিয়ে শত্রুুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা আসলেই শিখতে হয়,বুঝতে হয়। তা শিখতে মানে, শত্রুকে ব্যবহার করা শিখতে পৃথিবীকে ইসরায়েলের দিকে তাকাতে হবে। খোদ ইহুদের মহাশত্রু ইরানের প্রেসিডেন্টকে তারা ব্যবহার করেছে বলে বাজারে খবর ছড়িয়ে পরেছে। ইসরায়েল ২২টি মুসলিম দেশের বুকের ভিতরে বুক টান করে দাড়িয়ে আছে কি কেবল শক্তি, অর্থ, প্রযুক্তি ও অস্ত্রের জোড়ে? ওসব তো লাগবেই। তবে, আমরা তা মনে হয় না। কারন, ২১ টি আরব রাষ্ট্র ও আরেকটি পারস্য তথা আজকের জেরুজালেমের আশে পাশে শীয়া মুসলিম ইরান সহ ২২টি দেশের মুসলমান শ্রেফ ইসরায়েল ধ্বংস চায় না। তারা পৃথিবী থেকে ইহুদিদেরও নির্মূল করতে চায়। এ কথা কেবল আরব ও ইরান নয়, পৃথিবীর শিক্ষিত অশিক্ষিত মূর্খ, পন্ডিত সকল মুসলমানের ধর্ম বিশ্বাস! যে তারা পৃথিবী থেকে ইহুদি নির্মূল করবে। জার্মানির হিটলার ইহুদিদের জার্মান থেকে নির্মূল করতে চেয়ে ছিলো। আর মুসলমানেরা সাড়া পৃথিবী থেকে ইহুদের নির্মূল করতে চায়। অজো পাড়া গাঁয়ের শিক্ষিত, অশিক্ষিত, বই পত্রিকা পড়া, না পড়া সব মুসলমানের স্বপ্ন এটা। আমি এর আগেও বলেছি,লিখেছি, ইহুদের জন্য প্রত্যেক মুসলমান একেক জন একজন করে হিটলার! প্রত্যেক মুসলিম শিশু ইহুদি বিদ্বেষ নিয়ে বড় হয়। অবশ্য মুসলমিরা কেবল ইহুদি বিদ্বেষ নয় পৃথিবীর সকল অমুসলিম বিদ্বেষ নিয়েও বড় হয়। যেমন তারা শিল্পকলা, বিজ্ঞান, কবিতা, দর্শন ও সঙ্গীত বিরোধীও হয়ে ওঠে। ইসরায়েল ও ইহুদিরা তা জানে তার পরও তারা মধ্যপ্রাচ্যে টিকে আছে।।কারন, ইসরায়েল তার শত্রুকে, শত্রুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করে, করতে শিখেছে৷
অদ্ভুত বিষয় হলো প্রফেট মোহাম্মদ তার বিতাড়িত জীবনে ইহুদিদের ভূমি ইয়াসরিবে আশ্রয় নেন। ইহুদিদের সেই ইয়াসরিবেরই নাম এখন মদিনা। শত্রুদেরকে বন্ধু বানিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে সফল হয়েছে প্রফেট মোহাম্মদ। এ কাজে তার চেয়ে বেশি পারদর্শী ইতিহাসে আমি আজো কাউকে খুঁজে পাইনি। তিমুজিন ওরফে চেঙ্গিস খানও শত্রুদের ব্যবহার করতেন৷ তবে তা শ্রেফ যুদ্ধে মানব ঢাল হিসেবে। আর প্রফেট মোহাম্মদ শত্রুদের সফলতার সাথে বহুমুখি ব্যবহার করতেন৷ আলি ব্যাতিত প্রায় সকল সঙ্গী ছিলো তার জানে দুশমান। তাদের সম্পদ ও শক্তি, বুদ্ধি ব্যবহার করেই একদা তিনি মক্কা দখল করেন।

ভারতবর্ষ দখল করে আরব তুর্কি ইরানি তুরানি মোঘলেরাও একই কাজ করতো। ভারত দখল করার পর মুসলমান শাসকদের সনাতনি তথা হিন্দু সেনাপতি ও মন্ত্রী পোষারা কারনও ঐ একটাই। শত্রুকে বন্ধু বানাও এবং তাকে শত্রুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করে নিজের স্বার্থ হাসিল করো।

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশের সনাতনি সম্প্রদায় ব্যার্থ। তাদের শত্রুকে কোন ভাবেই ব্যবহার করেতে পারেনি বা ব্যবহার করতে চায় না। বাংলাদেশের সনাতনিরা ঐক্যবদ্ধ নয়। এবং শত্রুদের বন্ধু বানিয়ে ব্যবহার করতে শিখেনি। যা বাংলাদেশের মুসলমানেরা পারে। ১০টা হিন্দুকে ধর্মান্তরিত করে মুসলমান বানিয়ে তাদের দিয়ে প্রায় দেড় কোটি হিন্দু সম্প্রদায়কে অস্থির করে রাখে।
শত্রুকে বন্ধু বানিয়ে ব্যবহার করায় রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগও চরমভাবে ব্যার্থ। শত্রুর কথা কি বলবো, আওয়ামী লীগ বন্ধুকে ব্যবহার করতে পারে কিন না সন্দেহ! আওয়ামী লীগের যদি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মত একজন মহান নেতা না থাকতো এ দলটি টিকে থাকতো না। অনেক আগেই মুসলিম লীগের মত বিলিন হয়ে যেতো। বঙ্গবন্ধু আজ মৃত, তবুও আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির সামনে তিনি হিমালয় সমান বাঁধা। আওয়ামী লীগ শত্রুকে বন্ধু বানতে পারে না। অবশ্য আওয়ামী লীগের শত্রুরা সহজে আওয়ামী লীগের বন্ধু হয় না, এটাও সত্য। হয়তো আওয়ামী লীগ শত্রুদের বন্ধু বানিয়ে শত্রুদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে চায়ও না। বা বিষয়টা তারা বুঝে না।

একটা উদাহারন দেই যেমন মুসলিম লীগের বর্তমান সভাপতি, শেখ হাসিনার প্রসংশা করে চলছেন। এটা আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করা জানতে হবে। মুসলিম লীগের সভাপতি, আওয়ামী লীগ হবে না। এটা সম্ভবও নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ চাইলে এর চমৎকার ব্যবহার করতে পারে।
আরো একটা উদাহারন দেই, তসলিমা নাসরিন আওয়ামী লীগ জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের সমালোচক ছিলেন। তাতে সন্দেহ নেই। তিনি তো বিএনপি জামায়াতেরও সমালেচক? তাই না! এ কথাটা আওয়ামী লীগের লোকজন ভুলে যায় যে, তসলিমা নাসরিন আওয়ামী লীগের নেতা, কর্মী বা একজন সদস্যও নন। তিনি একজন লেখক, কবি, আলোচক, সমালোচক তার কাজ ও কর্তব্য বহুমুখী। তিনি কোন একটি দল ও মতে আটকে থাকবেন না, তা সম্ভবও নয়।
তসলিমা নাসরিনের আওয়ামী লীগের পক্ষে লেখা একটা কলাম দেশ সহ সাড়া পৃথিবীতে যত প্রভাব পরবে। আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতার শত শত বিবৃতি সেভাবে দেশ ও পৃথিবীতে প্রভাব ফেলতে পরবে না। আবার এই তসলিমা নাসরিনই যদি আগামী কাল আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং একই রকম কলাম লিখেন। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধ ও শেখ হাসিনার পক্ষে উকালতি করেন। তখন ও তার কথা ও লেখাটাও ঐ আওয়ামী লীগের নেতাদের মতই কম গুরুত্ব পাবে, তখন তার লেখার সার্বজনীন গ্রহন যোগ্যতা হারবে। আওয়ামী লীগকে তার সমালোচকদের লেখা,যা তাদের পক্ষে সেসব ব্যবহার করা জানতে হবে। যদি বলেন না আওয়ামী লীগের আর কারো প্রয়োজন নেই, তাহলে ভুল হবে। যুদ্ধে রাজনীতিতে, কূটনীতিতে অনেক কিছু ইচ্ছা না থাকলেও গ্রহন ও বর্জন দুটোই করতে হয়৷
তাই আওয়ামী লীগের, সান জু, চানক্য নীতি, ম্যাকিয়াভেলি,রবার্ট গ্রীনের 48 লজ অব
পাওয়ার গ্রন্থ ফলো করতে হবে। শত্রু, প্রতিপক্ষ, সমালোচকদের ব্যবহার করা শিখতে হবে। রাজনীতি ও ক্ষমতার খেলা সহজ সরল পথে নয়। সহজ সরল পথে পথে কোন দিন কেউ ক্ষমতা পায়নি, সহজ সরল পথে কেউ ক্ষমতা হারায়নিও।
ক্ষমতার সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার যোগসুত্র আছে।
বুদ্ধি বৃত্তিক চর্চা না থাকলে দূর্বল লোক ও দলের নিকট পরাজিত হতে হবে। তার প্রমান খোদ আওয়ামী লীগই। কারন, জামায়াত ইসলামি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ে আওয়ামী লীগ কোন কালেই ছোট দল ছিলো না। আজো অনেক জনপ্রিয় ও বৃহৎ দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। তবুও কেবল ক্ষমতার বাইরেই নয়,নিষিদ্ধও হয়ে আছে! এমনটা তো হওয়ার কথা ছিলো না। ক্ষমতার পালা বদল হয়,হচ্ছে,হবেও। তাই বলে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ থাকবে, কেউ করতে পারার সাহস করতে পারে? কেন এমনটা হলো? আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করে এ সরকার কিভাবে টিকে আছে? আমি ভেবে কূল পাচ্ছি না। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কোন অজুহাতই গ্রহন যোগ্য নয়।

সেই আগের কথাতেই ফিরে যাই আমরা। ক্ষমতা দখলে শত্রুকেও বন্ধু বানতে হবে,শত্রুকে চরমভাবে পরাজিত করতে। তার মানে এই নয় যে বন্ধুদের আপনি কাছে রাখবেন না বা তাদের মূল্যায়ন করবেন না। বন্ধুদের সকল আয়োজনে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
আবারো বলছি এটা আমার মত অজ্ঞের কথা নয়, পৃথিবীর বড় বড় পন্ডিতেরা বলে গেছেন। মনে রাখবেন সভ্যতা প্রযুক্তি যতই পাল্টে যাক মানুষের বৈশিষ্ট্য পাল্টে না। পেটের ক্ষুধা, যৌন ক্ষুধা, ক্ষমতার ক্ষুধা, সফলতার ক্ষুধা, হিংসা, ইর্ষা,আকাংখা, প্রতিযোগীতার মনোভাব এসব কিছুই বদলায়নি। এটাও আমার কথা নয় সেই মহান পন্ডিতদেরই কথা।
কেবল বন্ধু নয়। শত্রুকেও বন্ধু বানিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা শিখুন। এবং ব্যাক্তি জীবন,সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবনে সফলতা অর্জন করুন। কারন,আপনার পুরোনো শত্রু আপনার বন্ধুর চেয়ে শত্রুর ঘরের খবর বেশি জানে। আপনার বন্ধুর বন্ধুত্বের পরীক্ষা দিতে হয় না।।কিন্তু আপনার পুরোনো শত্রুকে সর্বদা বন্ধুত্বের পরীক্ষা দিতে হয়।
আর আমার কথা হলো,আমি আমার নিজের জীবন ও ইতিহাসের অলি গলি ঘুরে মানে, পড়ে দেখলাম।
মানুষ ব্যাক্তিজীবনে,সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে তথা ক্ষমতার খেলায় ঘনিষ্ঠ মানুষদের কারনে বেশি বিপদে পরেছে। যা তার শত্রুরা করতে পারেনি। দেশের উদারহারন,বঙ্গবন্ধুকে খুন করিয়েছে ঘনিষ্ঠজন মুসতাক। জিয়াকে খুন করেছে ঘনিষ্ঠ বন্ধু জেনারেল মঞ্জুর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উচ্ছেদ করেছে তারই ঘনিষ্ঠ জেনারেল ওয়াকার!
বৃটিশরাও হায়ার করেছিলো সিরাজ ও টিপু সুলতানের ঘনিষ্ঠ জনদেরকেই।
কোন কোন ইতিহাসবিদ মনে করেন ভারতবর্ষে আরব তুর্কি, মোঘল লুটেরাদের আমন্ত্রণ করেছিলো কোন না কোন হিন্দুই। ভারতবর্ষে মুসলমান আক্রমনকারীদের পথ দেখিয়ে নিয়ে এসেছিলো হিন্দুরাই!

“न विश्वसेत् कुमित्रे च मित्रे चापि न विश्वसेत्।
कदाचित् कुपितं मित्रं सर्वगुह्यं प्रकाशयेत्॥”


Spread the love
Tags :

Grid News

Latest Post

Find Us on Youtube