রাত একদিন নিঃশব্দ ব্রহ্মোপনিষদের পাখিদের মত
আমার কানে ফিসফিস করে, ঘুম থেকে জাগালো
তারপর বলে,
তুমি তো পথিক, তুমি তো কেবল দেহ নও,
তুমি অতি অতি প্রাচীন একটি মায়ার আত্মা,
অন্ধকারের গর্ভে জন্মেছিলে প্রথম নিঃশ্বাস হয়ে
যখন না ছিল দেবতা,
না ছিল মন্ত্র,
না ছিল কোনো নাম
না ছিলো রং, না ছিলো আকার, না বর্ণ, না ছিলো ভাষা
না ছিলো গোত্র, না ছিলো জাতি
তুমি কেবল আত্মা হয়ে জন্ম নিয়ে একটি দেহ খুঁজছিলে।
নিকষ কালো
শূন্যতায় জেগে উঠেছিলাম নাকি অদৃশ্য আমি,
একা নিঃসঙ্গ
আগুনের বীজ মহাশূন্যের বুকে কেঁদে ফিরছিলো
আমাকে কোলে নিয়ে, তোমাকেও;
আমরা এক দিন
পৃথিবীতে নেমে এলাম মায়ের রক্তমাখা ভোরে,
মৃত্তিকা আমার দেহকে দিল নাম, স্পর্শ, ক্ষুধা আকাঙ্ক্ষা
ঘুম, তন্দ্রা, স্বপ্ন, যৌবন,প্রেম, আরাধনা, কল্পনা ও শক্তি।
প্রতিদিন লোভের নদীতে আমি স্নান করি একা একা
পাথর, ফুল,শরীর, আলো জোছনা সব কিছু ছুঁয়ে চলছি,
একদিন দর্পণ বললো—
তুমি মানুষ হও, নির্মোহ হও, ঋষি হয়ে ওঠো ধরণীর বনে।
আমি তপস্যার আগুনে পুড়লাম ছাঁই হলাম বহু যুগ,
পিতা-মাতা, স্ত্রী-পুত্র, ঘর-দোর সব ছেড়ে দিলাম এক নিমেশে
এমন কি স্বর্গের অপ্সরাদেরও বিদায় জানাই নির্লিপ্ত চোখে,
ধর্মহীন এক ঋষি হয়ে উঠলাম নক্ষত্রগুলোর আকাশ বাগানে
তবু কেন যেন তৃষ্ণা গেল না,তৃষ্ণা যাওয়ার নয়!
ঋষি হয়েও আমি আরো লোভী হয়ে উঠলাম যেন।
আমি রাতকে বললাম—
শোন রাত, মন দিয়ে শোন;
আমি আলো হতে চাই না, আমি আলেয়া হতে চাই—
অন্ধকারের মেঘের ভাসমান এক রহস্যময় জ্যোতি হবো।
রাত তখন মৃদু হেসে বললো—
তুমি আত্মা, আলো হও বা হও না কেন আলেয়া
সব পথ ঘুরে
সব পথ শেষ পর্যন্ত ফিরে যাবে সেই পুরেনো পুরানের পৃষ্ঠায়
যেখান থেকে
জন্মেছিলে তুমি,সেই নিকশ কালো অন্ধকার,অন্ধকারে।
আমি তবুও বলছিলাম
আমি অন্ধকারে আলো নই, আলো নই, আলেয়া হবো!
রাত কাঁদতে
কাঁদতে আমাকে গাছের লতার মতো জড়িয়ে ধরলো
আমি তখন সবুজ আলো থেকে আলেয়া হয়ে গেলাম।
হারিয়ে গেলাম আমি
মহাশুন্যে চুরাশি লক্ষ যোনী তখন কাঁদছিলো রাত হয়ে
আমাকে পুনর্জন্ম দিতে।
ধর্মহীন এক ঋষি হয়ে উঠলাম নক্ষত্রের
আকাশ বাগানে।



