বাসুকি (২)

অন্ধকারের বুক চিরে এক নিঃশ্বাস জাগে—বাসুকি,
তোমার নাম উচ্চারিত না হলেও শোনা যায়।
নীরব ফণার নিচে ঘুমিয়ে থাকে মায়াবি আগুন,
চোখে তোমার জমে আছে আদিম রাতের অমূল্য স্মৃতি।
ক্ষীরসাগরের ঢেউ আজও কাঁপে তোমার শুভ স্পর্শে,
দড়ি ছিলে—কিন্তু দাস ছিলে না কখনো
বিষের স্বাদে তোমার জিহ্বা হয়নি নীল,
নীল হয়েছে সময় শিব নিজেই।
শিবের কণ্ঠে আটকে থাকা আর্তনাদে
তুমিই ছিলে অনুচ্চারিত সুর সহনশীলতা।
কেউ দেখেনি তোমার যন্ত্রণা,
কারণ তুমিই শব্দকে বর্জন করেছিলে – বাসুকি।
সর্পিল পথে হাঁটে যে সত্য সনাতন
তার ছায়ায় তোমার দেহ সু- দীর্ঘ হয়।
অধৈর্য ও ভয় তোমার কাছেই শিক্ষা নেয় সংযম,
আঘাত থেমে যায় তোমার চোখের কাছে প্রাথনা করে ক্ষমা।
বাসুকি—
তুমি অন্ধকার নও,
তুমি আলোকে সহ্য করার সীমাহীন ক্ষমতা।
শহরের নিচে চাপা পড়ে থাকা এক সর্পিল নিঃশ্বাস—
বাসুকি,
তোমার দেহ মানে বৃত্ত, লুকোনোর,পালানোর পরিক্রমা নয়।
কাঁচ ও কংক্রিটের ফাঁকে ফাঁকে জমে থাকে সব বিষ,
কেউ ছোঁয় না—তুমিই বহন করো তা।
ক্ষমতার মন্থনে দড়ি হয়ে টানা হয় আমাদের,
কিন্তু নাম লেখা থাকে না কোথাও।
নীল হয়ে যায় কণ্ঠ, কন্ঠ নীল
আর আমরা তাকে বলি—নিস্তবদ্ধতা।
শিব আজ মূর্তি,
তোমার কাঁধে রাখা যন্ত্রণা এখন প্রাত্যহিক।
সংবাদে আসে না তোমার দগ্ধ ফণা,
ইতিহাস তোমাকেই ব্যবহার করে আবার ভুলে যায়।
তুমিই জানো—
শক্তি মানে ক্ষিপ্র গতিতে দাঁত বসানো নয়,
শক্তি মানে বিষ মুখে নিয়েও
পৃথিবীকে বাঁচতে দেওয়ার অঙ্গিকার।
রাতে যখন শহর নিজেকেই নিজে গিলে ফেলে,
তুমি ছায়া হয়ে পাহারা দাও সীমারেখায়।
বাসুকি—
প্রকৃতি ভিতরে থাকা সেই সুকঠিন সহ্যশক্তির নাম।
