একটি মায়াবী পাখি
এই যে আকাশে পাখিটা উড়ে গেলো,
সে কি সত্যিই উড়ে—
নাকি আমার চোখের ভেতরেই দেয় উকি
মায়া ডানা মেলে।
গাছের ডালে ডালে বসে থাকা শরীর,
ফল খায়, তৃপ্তি পায়, স্বপ্ন দেখে চলে—
আরেকটি পাখি চুপচাপ তাকিয়ে থাকে,
পাশাপাশি পৃথিবীর কোন লোভ যে ছোঁয় না তাকে।
কখনো আমি ভাবি—আমি উড়ছি,
আসলে মায়াই আমায় উড়ায়;
উড়ি আর ভাবি—আমি কি বন্দি,
খাঁচাটা লোহার? বাঁশের? খাঁচা তো খাঁচাই।
জটায়ুর রক্ত মাটিতে পড়েনি,
পড়েছিলো সময়ের বুকে—
ধর্ম কি মরে যায়!
না কি মায়াই তাকে ঢেকে রাখে পাথর চাপা দিয়ে?
অর্জুনের চোখে পাখি ছিল,
আমার তোমার চোখে শুধু দৃশ্য—
লক্ষ্য ভুলে আমি দেখি জগৎ,
আর তখন জগৎই হয়ে উঠে আমার শত্রু।
কে আমি?
দেখা পাখি, নাকি অদেখা ?
যে উড়ে বেড়ায় জন্ম-মৃত্যুর মাঝে জনম জনম
নাকি যে কখনো জন্মায়নি?
একদিন এই মায়া নিজেই ক্লান্ত হবে।
ডানা গুটিয়ে বসবে নীরবতায়।
তখন পাখি থাকবে, আকাশ থাকবে।
আমি আর তুমি থাকব না কেন?
