অনেক মানুষ জানবে না কেন সে মরে গেলো!
আমার ঘুম আসে না। সে কারনে, কোন কোন প্রাণী রাতে ঘুমোয় না। সে বিষয়ে এ হপ্তা পড়লাম। পড়ে বিস্মিত হয়ে গেলাম। শিশু কেন বেশি ঘুমায়। আমি কিশোর ও তরুন বয়সে কেন বেশি ঘুমাতাম৷ তাও আবিস্কার করলাম। বয়স্করা কেন ঘুমায় কম। তা জানলাম। সে সবের বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক কারন খুঁজে বের করলাম। ইনসোমেনিয়া রোগে ভুগছি নিউরোলজির রোগী বলে এমন ধারনাই প্রবল ছিলো। এখন দেখি এর কারন ভিন্ন! রাতে না ঘুমানো প্রানীগুলোর মধ্যে, কুকুরের না ঘুমোনোর কারন আমাকে বেশি বিশ্মিত করলো। আজ থেকে কুকুরের রাতে ঘেউ ঘেউয়ের কারনে আর বিরক্ত হবো না। কারন, কুকুর অসহায় সে শখ করে নির্ঘুম থাকে না। অথবা চোর পাহারা দেয়ার জন্য ঘুমায় না। তাও ঠিক নয়। মাটির উপর ও নিচের বিস্ময়কর শব্দ তরঙ্গ বুঝতে পারার ক্ষমতা তাকে ঘুমোতে দেয় না৷ রাতে মাটির নিচে ও উপরে এমন সব শব্দ হয়, যা আমরা মানেষ সহ অনেক প্রানী বুঝে না। সে ক্ষমতা প্রকৃতি আমাদের দেয়নি। প্রকৃতি কু্কুরকে এমন অতিরিক্ত ক্ষমতা দিয়েছে। যে কারনে সে অনেক কিছু শুনে। যদি কুকুরের সে অতিরিক্ত ক্ষমতা না থাকতো। তবে সেও ঘুমোতো। তার সে শ্রবণ শক্তি বা শোনার ক্ষমতা আমাদের মত কেবল কানে নয়। তার হাতের পায়ের থাবার নরম তুলতুলে অংশ! সকল তরঙ্গ তার মগজে প্রবেশ করিয়ে দেয়। আহারে প্রকৃতির বিচিত্র খেলা।
ঠিক যেমন বর্ডারে থাকা সিপাহী বাঙ্কারে অস্ত্রে সজ্জিত থাকার পরও সে ঘুমোতে পারে না। গুলির আঘাতে মৃত্যুর ভয়ে। সে ভয় আবার আম জনতার নেই। কারন, তারা অস্ত্র ও সীমান্ত সম্পর্কে ধারনা হীন। চোর ঘুমোতে পারে না অর্থ ও ধনলোভে। চুরি তার পেশা, আমজতনতা চোর নয়। সে অনুভূতিও নেই। প্রেমিক ঘুমোতে পারে না বিরহ অথবা অভিসারের নেশায়। সকল মামুষ আবার প্রেমিক নয়। তেমনি রোগীরা,ঘুমোতে পারে না।
কিছু অনুভূতি থাকে দার্শনিক৷ যেমন, মানুষের ধর্মানুভুতি আছে।।কুকুর, গরু, বাঘ সিংহ, ঘোড়া উটের তা নেই। আবার সব মানুষের ধর্মানুভুতি এক নয়। একেক জনের সে অনুভুতি একেক রকম, রং ঘর দেয়ালে জাগে বা জাগে না। কুকুর তা নয়। প্রকৃতি ও পদার্থের সব বিষয় এক। সব কুকুর এক রকম। সব বাঘ এক রকম। সব শালিক এক রকম। দুনিয়ার সব বানর এক রকম। জল উপর থেকে নিচে বয়ে যায়।
বেশ কয়েক দিন আগের একটি অদ্ভুত ঘটনা বলি। একজন নারী ক্ষেতে জমি কোপাচ্ছিলেন। তার আাশে পাশে সাত আটটটি সাদা বক পোকা মাকড় খাচ্ছিলো। দুইটি শিশু দৌড়ে বকগুলোর দিকে গেলো। তাদের দৌড়াদৌড়িতে বকগুলো লাফ দিয়ে একটু দুরে যায় বা উড়ো উড়ি করে।।কিন্তু চলে যায় না! আমি এসব দেখে পাকা পথ থেকে নেমে ক্ষেতের ভিতর গেলাম বকগুলোর কাছে। বকগুলো বেশ একটু দুরে চলে গেলো। আমি যতক্ষন থাকলাম কাছে এলো না। আমি পাকা রাস্তায় এলে আবার বকগুলো সেই নারীর কাছে গেলো।।শিশুরারও খেলছিলো বকগুলোর সাথে।।বকগুলো পোকামাকড় কেঁচো খাচ্ছে আর বাচ্চাদের সাথে খেলছে।নারীটি কখনো কখনো কোদাল চালাতে পারছে না বকগুলোর জন্য।
বকগুলো আমাকে দেখে পালালো কেন? এটা তার অনুভূতি! আমাকে বিপদজনক মনে করে ছিলো। যদিও আমিও ঐ নারী ও শুদেদের মতই মানুষ।
আমি যখন আরেকটি দেশে ছিলাম, বাইরে ঘুমাতাম৷ ময়ুর আমার খাটের পাশেই থাকতো। প্রথম দিন আমি স্বপ্ন ভেবে ছিলাম। প্রথম দুদিন ময়ুরগুলো একটু ভয়,পেতো। কিন্তু তারপর ময়ুর ও ময়ুরের বাচ্চাগুলো আমার সাথে হাটতো৷ আমিও খুব সকালে ময়ুর ও ময়ুরের বাচ্চাদের সাথে খেলা করতাম। আমি তখন হরিয়ানায় থাকতাম। সে এক ভিন্ন রকম অনুভুতি। আমি কয়েকদিন সেই নারী ও বকগুলোকে দেখতে যেতাম। এক সময় বকগুলো আর আমাকে ভয় পেতো না। আমার বাসার চড়াই পাখিগুলো দু-মাস আগেও আমাকে দেখলে ভয় পেতো এখন ভয় পায় না।
এখন আমার বাসার আসের পাশের কুকুরগুলো ঘুমোচ্ছে। তারা ঘেও ঘেও করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছে মনে হয়। আমার বাসায় সন্ধ্যা হলে অপরিচিত কোন মানুষ ঢুকতেই পারবে না। এমন কি রাত ১০টা বাজলে অ সন্দেহজনক আচরণ করলে, কেউ রাস্তায়ও হাটতে পারবে না ভোর ছয়টা পর্যন্ত। বাইক বা কারও আপনি অস্বাভাবিক ভাবে চালালে। আপনার সামনে অনেকগুলো কুকুর সতর্ক অবস্থান নেবে। মাতাল হয়ে এ পথে হাটলে আপনাকে এক কদম এগোতে দেবে না। যতক্ষণ আশে পাশের কেউ আপনাকে রক্ষা না করে। কোন কিছু মাথায় নিয়ে হাটতে পারবে না। তাই সিসি ক্যামেরা চালু আছে নাকি নষ্ট এসব ভাবনা নেই আামার। মজার বিষয় হলো এ কুকুরগুলো কামড়ায় না। এই পথকুকুরগুলো শক্ত পহারদার অথচ মানুষ অনেক দাম দিয়ে কুকুরও কিনে সেগুলো খুব উপকারি বলে মনে হয় না। মনে রাখতে হবে, কুকুর নামক প্রাণীটিকে মানুষ প্রথম পোষ মানতে পেরেছিলো। আদিম যুগের প্রথম বন্ধু এই কুকুর। আদিম মানুষের জীবন রক্ষা করতো কুকুর। বৈদিক দর্শনে দেবতার সাথে কুকুর রুপে ধর্ম স্বর্গে যায়। আরবের ধর্মেও বিশেষ কুকুরের কথা আছে। ভারত নেপাল ভুটানে কুকুর অর্চনা করা হয়। আবার পাহাড়ি ও কোরিয়ানদের আমি কুকুর ভক্ষন করতে দেখেছি।
কুকুরেরা ঘুমোতে পারে না। তার থাবা হয়ে তরঙ্গ মগজে চলে যায়। আর আমি ঘুমোতে পারছি না বই পড়ার কারনে। অনেক তরঙ্গ মগজে ঢুকে যায়। অনেক ভাবনা আমাকে ঘুমোতে দেয় না। কুকুর তার কয়েক মাইলের তরঙ্গের ধাক্কায় ঘুমোতে পারে না।।আর আমি সারা দুনিয়ার তরঙ্গ শুনি আমিও কুকুগুলোরও মত ক্লান্ত না হলে ঘুমোতে পারবো না। এটাই স্বাভাবিক। কুকুর, ইদুর, বাদুর, পোকা মাকড় সহ অচেনা অজানা অনাবিষ্কৃত প্রাণী, কীট পতঙ্গের আওয়াজে নির্ঘুম। আর আমি সারা পৃথিবীর মানুষের আওয়াজে নিদ্রাহীন। আমিও কুকুরের মত হয়ে গেছি। ঘুমোতে পারি না। কুকুর ও আমার অনুভুতিগুলো, আপনা মাংসে হরিণা বৈরীর মত। যোগ্যতা অনেক সময় বিপদের কারনও হয়ে দাড়ায়!
গতকাল একজন বিখ্যাত ব্যাক্তি আামকে বলেছেন, ফরিদ, তোমার প্রতি অনেক মানুষের অনেক আকাংখা। তুমি তোমার পরিবার সামাজ এমন কি তোমার রাষ্ট্রের বাইরেও তোামাকে নিয়ে অনেকে মানুষ স্বপ্ন দেখে। নিজেকে আরো ভিন্ন ভাবে তৈরী করো। আরো পড়ো,লেখো,পড়ো। আমি বললাম, আমাকে এখন অর্থ আয়ের দিকে ধাবিত হতে হচ্ছে। তিনি বললেন, যে রাধতে জানে সে চুলও বাঁধতে জানে। তোমাকে কোন কিছু করতে নিষেধ করা হচ্ছে না। মাঝ পথে হারিয়ে যেও না। তুমি এখন আর তোমাতে নও৷ অনেক মানুষের জীবন ও জীবীকার কারন হয়ে উঠেছ তুমি। আমি খুব খুশি তুমি অজোপাড়া গায়ের সাধারণ একজন মানুষ অনেকের আশার প্রদীপ হয়ে উঠেছ!
আমও বললাম, আমি তো একজন ব্যার্থ পুত্র, ব্যার্থ পিতা, ব্যার্থ ভাই।।ব্যার্থ বন্ধু!
তিনি এসবের উত্তর না দিয়ে, বললেন, নিয়মিত ঘুমানোর চেষ্টা করো সুস্থ থেকো।
কোন অসাধারন মানুষের মুখে এসব কথা শুনলে ঘুম আরো দুরে সড়ে যায়। আজ ঘুমোবো বলে, লাইভে যুক্ত হইনি।।তবুও ঘুম আসছে।। ঘুম না আসা কখনো কখনো রোগ নয়। যেমন কুকুর ঘুমোতে পারে না। এ নয় যে সে ঘুমোতে চায় না,আসলে ঘুমোতে পারে না।
অঝরে বৃষ্টি হচ্ছে। যে কোন মামুষের জন্য ঘুমের জন্য অসাধারণ পরিবেশ ও রাত এখন। তবুও জেগে আছি। আামার ইদানিং ভয়াবহ মানসিক পরিবর্তন ঘটে গেছে।।আমি এখন মানুষের সাথে মিশতে পারছি না। কারো সাথে কথা বলতেও ভালো লাগছে না। আজ বের হয়ে ছিলাম আামার প্রিয় দুইজন মানুষের সাথে। দুজনের একজনকেও পাইনি। একজন ব্যাবসায়ীক কাজে বাইরে আরকেজন রাজনৈতি কারনে বাইরে। একজনের স্ত্রী ও আরেকজনের স্ত্রী ও পুত্রের সাথে দেখা করে চলে এসেছি।
আমার ডাক্তার খুব খুশি, তিনি ভাবছেন, আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেই। ঘুৃমোচ্ছি। আসলে আমি নিদ্রাহীন!
আরেক জনের সামনে আমি যেতে পারছি না। তিনি দেখা হলেই জানতে চান।।প্রতিদিন দুই তিন পৃষ্ঠা লিখি কিননা জমা রাখছি কি না! আমি বলি কি লিখবো? তিনি বলেন, যা মনে চায় তাই লিখে রাখুন। প্রায় এমন কথা ২০১০/১১ সালে ডক্টর লেনিন চৌধুরী বলে ছিলেন। ফরিদ,এ খাতাটা নাও আর লিখে ভরে ফেললে, আবার আসবে। আবার খাতা দেবো। তবে এবার যিনি আমার লেখা চান, তিনি অন্য দেশের। তবে চেতনা তারা একরকম। তারা দুজন দুজনকে চেনেন না। আমি তাদের দুজনকেই চিনি। তারা ব্যবসায়ী তবে লোভি নন।
আমি এখন ঘুমোবো। আমি যখন ঘুমোতে যাচ্ছি,অনেক মানুষ না খেয়ে আছে। অনেক অঞ্চলে যুদ্ধ হচ্ছে। অনেক মানুষ বেকার,আগামী কাল চাকরি খুঁজবে। অনেক নারী ধর্ষিতা হবে। অনেক মানুষ খুন হবে। অনেক মানুষ চিকিৎসার অভাবে মারা যাবে।।অনেক মানুষ পয়সার অভাবে পড়ালেখা বাদ দেবে। অনেক মানুষ ঋণগ্রস্ত হবে। অনেক মানুষ এমনিতেও মরে যাবে। আবার অনেক শিশু জন্ম নেবে। অনেক মানুষ কবিতা লিখবে। অনেক মানুষ সঙ্গীত রচনা করবে। অনেক মানুষ ধনী হবে।।অনেক মানুষ দেউলিয়া,হবে। অনেক অনেক মানুষ দরিদ্র হবে। অনেক নারী বেশ্যালয়ে পাচার হবে। অনেক পুরুষ উন্নত দেশে যেতে জলে ডুবে মরবে। অনেক মানুষ মরে যাবে সড়ক দুর্ঘটনায়৷ আমরা ঘুুমোবো।।কেউ কেউ ঘুমের ঘরেই মরে যাবে। পৃথিবীর অনেক মানুষ পথের কুকুরটির মত জানে না।।কেন? কি কারনে সে মারা গেলো!
