অনুরোধের আসরের এমপি, পাটোয়ারি মুচলেকা সংসদে দাড়িয়ে বলেছে। জেনজিরা ৭২ এর সংবিধান চায় না৷ নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সংবিধান চায় না৷ এই জেনজিরা কারা? এই নতুন প্রজন্ম কারা? মুচলেকা সংসদ কথাটা আমি আমদানি করেছি। এই সংসদের সরকারি ও বিরোধী দলের কথা, কাজ ও আচরণ দেখে। খোদ এই সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ১২ তারিখের ত্রয়োদশ নির্বাচনের আগে জামায়াত ও বিএনপি আমেরিকার সাথে গোপন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। জেনজি, নতুন প্রজন্ম শব্দগগুলো নয়া আমদানি করা। জেনজি কারা? আজ জাতির সামনে পরিস্কার হয়ে গেছে জিনজি মানে জিন্নাস্ জেনারেশনস্৷ কোন জিন্না ৪৭ এর জিন্না। সাম্প্রদায়িক জিন্না।
৪৭ এর জিন্না কে? যিনি গিদরের গোস খেতেন,মদ গিলতেন নামাজ পড়তে জানতেন না। তিনিই ইসলামি পাকিস্তান বাবা এ কওম। এই জেনজিরা বঙ্গবন্ধুকে কে জাতির জনক মানতে নারাজ। বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনক মানা অনৈসলামিক। অথচ, এই জেনজির বাপ দাদারা জিন্নাকে বাবা এ কওম বলতো৷ তখন কোন মোল্লা মৌলোভি একবারও ফতোয়া দেয়নি বাবা এ কওম বা জাতির পিতা মতটা অনৈসলামিক। এখন বলে, কারন, তারা পাকিস্তান ভাঙার দায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে অপছন্দ করে। শত্রু মনে করে। শুধু তাই নয়, ইসলামী পাকিস্তানের শত্রু বলে জাহির করে। ৭১ এর পক্ষের সকল শক্তির সামনে তারা ইসলাম এনে দাড় করাবে। কারন, এ ছাড়া স্বাধীনতা বিরোধী জাময়াত এ ইসলাম,নেজামে ইসলাম, রাজাকার, আল বদর আল শামস ও তাদের উত্তরসুরীদের আর কোন ঢাল নেই। এই ধর্মীয় ঢালটা ব্যবহার করে মানবতা বিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আজ প্রধান বিরোধী দলে! আবার সরকারি দলে, তারই পৃষ্ঠেপোষক বিএনপি। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ ব্যার্থ হয়েছে। সরকারে থেকে আওয়ামী লীগ তারই মতের একটি বিরোধী দল বানাতে পারেনি। যা বিএনপি পেরেছে।শুধু তাই নয়। আওয়ামী লীগ ১৭ বছর টানা ক্ষমতায় থেকে স্বাধীনতা বিরোধী জাময়াতকে নিষিদ্ধ করতে ভয় পেয়েছিলো। জামায়াত বিদেশি শক্তির পাপেট ইউনুস সরকারের কাঁধে চড়ে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করে দিয়েছে৷ শুধু তাই নয়। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী সহ বেশ কয়েকজন নেতার ফাঁসীর রায় দিতে কয়েক মাসের বেশি সময় নেয়নি৷ এমন কি আজ স্বাধীন বাংলাদেশে কেউ বঙ্গবন্ধুর নাম নিলে। ঐতিহাসিক ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি ও জাতীয় স্মৃতি সৌধে ফুল দিতে গেলে৷ জয় বাংলা শব্দ উচ্চারণ করলে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা হয়! ভাবা যায়? আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে যা পারেনি। জামায়াত তা সরকারে না গিয়েই তা করে ফেলেছে সফল ভাবে। আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা বিরোধী ব্যাক্তি ও দলকে নিষিদ্ধ না করার পক্ষে কিছু যুক্তি তুলে ধরতো৷ স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত ও বিএনপি কিন্তু কোন যুক্তির ধার ধারেনি। তারা,কিন্তু একবারও দেশের ভিতরে থাকা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের কথা ভাবেনি। ভাবেনি আন্তর্জাতিক চাপের কথা। স্বাধীনতা বিরোধীরা, তাদের শত্রুর প্রতি নুন্যতম ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়। তাহলে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিরা কেন স্বাধীনতা,বিরোধীদের ছাড় দিয়ে ছিলো? নাকি আওয়ামী লীগের ভিতরেও স্বাধীনতা বিরোধীরা,ঘাপটি মেরে বসে ছিলো? আমাকে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা বলেছিলেন, জামায়াত নিষিদ্ধ হলে তারা আন্ডার গ্রাউন্ডে চলে যাবে। আন্তর্জাতিক চাপ বাড়বে আওয়ামী লীগ সরকারের উপর! তাদের এ যুক্তি ভুল ছিলো। আসলে সেই নেতারা কেন জামায়াত নিষিদ্ধ করতে চায়নি। সে সত্যটা বললে আমার উপর অনেকেই গোস্বা করবে খোদ আওয়ামী লীগের নেতা কর্মিরাই। জামায়াত ৩% হয়েও তো ভাবেনি ৫০% আওয়ামী লীগ আন্ডারগ্রাউন্ড পলিটিক্স শুরু করলে তাদের বিপদ হবে। অথবা বিএনপি তো ভাবেনি আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে পরবে!
যা বলছিলাম, ৭২ এর সংবিধানের উপর আমার ভাবীর পোলাদের এ ক্ষোভ নতুন কিছু নয়। স্বাধীনতা বিরোধীদের এ ক্ষোভটা পুরোনো । অনুরোধের আসরের এমপি পাটোয়ারী বলেছে, নতুন প্রজন্ম ৭২ এর সংবিধান চায় না। এ কথাটা তার নয়। এ কথাটা মুচলেকা সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা, যিনি তিনবার জামানত হারিয়ে ছিলেন। এবারও তাই হতো, কিন্তু কথিত ডিপস্টেটের পাপেট ইউনুসের অনুরোধে ডাক্তার শফিককে এমপি বানানো হয়েছে।
শিশু কিশোর কোটার এমপি পাটোয়ারির বলা, নতুন প্রজন্ম ৭২ এর সংবিধান চায়না। এটা আদতে জামায়াতে ইসলামির বায়না। তারা সরাসরি বলার সাহস পায় না বলে তাদেরই শিশুটিমের এমপির মুখ দিয়ে বলাচ্ছে। এতে মুচলেকা সরকারের প্রধান তারেক রহমান ও তার দল বিএনপিরও যে সায় আছে। তা বাংলাদেশের রাজনীতির প্রাথমিক জ্ঞান যাদের আছে তারা সকলে তা বুঝে,জানে। ৭২ এর সংবিধান থাকলে, আজকে যারা মুচলেকা সরকারে, সরকারী ও বিরোধী দলে আছেন। তারা বিপদে পরে যান। ৭২ এর সংবিধনের আয়নাতে তাদের চেহারা সুরত ভালো দেখায় না। গোস্বাটা এখানেই। ৭২ এর সংবিধান থাকলে তাদের ৭১ এর অতিত সামনে চলে আসে। এবং তাদের অস্তিত্ব সংকটে পরবে।। তাই ৭২ এর সংবিধানে এত ভয়। শ্রেফ জয়বাংলা শ্লোগানে বিএনপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক প্রাসাদ তাসের ঘরের মত ঙেঙ্গে পরে। ৩২ নম্বর বাড়ির সামনে কয়েকজন মানুষ দাঁড়ালে বিএনপি জামায়াতের লোকজন জলাতঙ্ক রোগীর মত ছটফট করে ওঠে। তারা জানে জীবীত শেখ মুজিব থেকে মৃত মুজিবের শক্তি অনেক বেশি। তাই মুজের যে কোন স্মৃতি চারণে জামায়াত বিএনপির শরীরে আগুন লেগে যায়। এই নতুন প্রজন্ম ও জেনজি বলে যারা দাবী করছে৷ এরা জামায়াতের কোচিং সেন্টারে মগজ ধোলাই হওয়া প্রজন্ম। ওয়াজের মঞ্চ, মসজিদ মাদরাসাতেও মগজ ধোলাই হয়। এ কথা খোদ আওয়ামী লীগের অনেক নেতা কর্মি মানতে নারাজ। যদিও এটাই সত্য। আজকাল আর বিভিন্ন ছদ্মবেশে নয়। সরাসরি তাও আবার সংবিধান মতে শপথ নিয়ে সংসদে বসে, সংবিধানের বিরুদ্ধে কথা বলা হচ্ছে। এটা এক দিনে হয়নি। এই ৭২ এর সংবিধানের বিরুদ্ধে অনেক বিনিয়োগ ও অনেক সময় ব্যায় করেছে স্বাধীনতা ও ৭২ এর সংবিধান বিরোধী গোষ্ঠী। তাই আজ তারা প্রকাশ্যে আসতে পেরেছে৷
নতুন প্রজন্ম ও জেনজি বলে কিছু নেই। এরা স্বাধীনতা বিরোধীদের একটি অতিরিক্ত অংশ ভিন্ন নামে। স্বাধীনতা বিরোধীরা তাদের দলের আগে ও পরে ইসলাম শব্দটি যুক্ত করে ঢাল হিসেবে। তারপরও যখন তারা টিকতে পারছিলো না মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সাথে। তখন, তারা এই জেনজি ও নতুন প্রজন্ম শব্দ ব্যবহার শুরু করলো। এ দেশের নতুন প্রজন্মের অনেকে আছে। যারা জামায়াত ও বিএনপির রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই তো আজো সেনাবাহিনীর ছত্রছায়ায় তাদের থাকতে হচ্ছে। এবং সেনা ছত্র ছায়ায় থাকতে হবেও। কারন, তারা জানে তাদের এ নির্বাচন একটি মুচলেকা নির্বাচন। এ সংসদ মুচলেকা সংসদ, এ সরকার মুচলেকা সরকার। এরা একদা বলতো আওয়ামী লীগ, ভারত ও পুলিশ ছাড়া সাত দিন টিকবে না। অথচ এরা এখন আর্মি ও আমেরিকার দোয়ার বরকতে টিকে আছে। এরা গনতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ের কথা বলেছিলো। এরাই বৃহত্তর রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করে রেখেছে। নতুন প্রজন্ম ও কথিত জেনজিরা বলে ছিলো তরা কোন কোটা চায় না। এখন তারা কোটা আরো বৃদ্ধি করেছে। এরা আইন ও বিচারের কথা বলেছে। এখন তারা নিজেদের দ্বারা সংগঠিত হত্যা খুন। জ্বালাও পোড়ানোর মত অপরাধ থেকে রক্ষা করতে ইনডিমনিটি নামে রক্ষা কবচ গলায় ঝুলিয়েছে! এতে তাদের গলা ফাঁসির দড়ি থেকে রক্ষা পাবে? ইতিহাসের উত্তর হচ্ছে, না। এই জেনজিরা কেবল স্ববিরোধীই নয়। মিথ্যুক এবং প্রতারকও।
বাংলাদেশের মানুষ ৭২ এর সংবিধানের বিরুদ্ধে যে কোন ষড়যন্ত্র রুখে দেবে। বিদেশি প্রভু ও দেশি সেনাবাহিনী ছত্রছায়ায়,বহুবার বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ ও ৭২ এর সংবিধানে আঘাত করার চেষ্টা করা হয়েছে। ফলাফল উল্টো হয়েছে। ৭২ এর সংবিধান বিরোধী ও স্বাধীনতা বিরোধীরা যে রুপেই আসুক। তারা যত দেশি বিদেশী পৃষ্ঠপোষকতা সমৃদ্ধ হোক। তারা আবারো ব্যার্থ হবে।।তারা যদি মনে করে শেখ হাসিনাকে নির্বাসন দিয়ে, ৩২ নম্বর ধানমন্ডি ভেঙ্গে। আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করে তারা পার পেয়ে যাবে। তাহলে তারা ভুল করছে,ভুল ভেবেছে। প্রয়োজনে আবারো বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ পক্ষ বিপক্ষ শক্তি মুখোমুখি হবে। জিতবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তিই। কেন না পুরো পৃথিবী সহ বাংলাদেশের মানুষ এখন বুঝে গেছে, ২৪ এর জুলাই আন্দোলন কোন কোটা বিরোধী আন্দোলন ছিলো না। গনতান্ত্র ফিরিয়ে আনার লড়াই ছিলো না
। জুলাই সন্ত্রাস ছিলো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে সরকার থেকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র। সেই সাথে ভারতেকে অস্থিতিশীল করে দক্ষিন এশিয়ায় আরেকটি যুদ্ধ ক্ষেত্র তৈরীর পায়তারা। ভারত আগামীতে চীনের মত অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে শক্তিশালী হতে যাচ্ছে। যা কয়েকটি দেশের পছন্দ নয়। তাই এ দেশে স্বাধীনতা বিরোধী সাম্প্রদায়িক ও চরম মৌলবাদী গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। ৭২এর সংবিধান চায় না জেনজিদের এ বায়না নতুন কোন বায়না নয়। বাংলাদেশের মানুষ বরাবরের মত এবার তাদের প্রত্যাখান করবে।।
