নগরের ঋষিরাজ সক্রেটিস
কারাগারও নিরবে কাঁদছিলো
কাঁদছিলো দেয়ালও সেদিন,
এক কোনায় একটি নীল প্রজাপতি বসেছিল
সেও জানত
আজ কোন এক সময় জ্ঞানকেই বিষ খাওয়ানো হবে!
সন্ধ্যার আলো ধীরে ধীরে
এথেন্সের আকাশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছিলো
যেন সূর্য নিজেও
একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে নিজেকে পৃথিবীর দর্পনে দেখছে।
সক্রেটিস নিশ্চিন্তে বসে আছেন কেন?
চোখে সমুদ্রের ঢেউয়ের মত আছড়ে পরছে অগনিত প্রশ্ন
এই প্রশ্নগুলোই তার হাতে আজ বিষের পাত্র হয়ে উপস্থিত
আর তার শিষ্যদের চোখে
অস্থির নৌকার যাত্রীদের মত ভয় খেলা করে চলছে।
বিষের পাত্রটি
একটি ছোট গ্রহ যেন
তার হাতে লাটিমের মত ঘুরছিল,
পৃথিবী নিজেই আজ সক্রেটিসকে জিজ্ঞেস করলো
জ্ঞান অর্জন এবং তার বিকাশই কি তোমার অপরাধ ঋষি?
তিনি হাসলেন,ভুমিকম্পে কেবল ভূমি কাঁপে
তার হাসিতে ভূমি সমূদ্র, অরণ্যের সাথে আকাশও কেঁপে উঠলো
ঋষি কেবল বন অরণ্যে থাকে না গেরুয়া আবরনে
নগরেও জন্ম ঋষি, সক্রেটিস নগরের ঋষিরাজ!
তার হাসি ছিল
অজানা মহাবিশ্বের দ্বার খুলে ফেলার অচেনা অজানা শব্দ।
বিষ ধীরে ধীরে ধীরে ধীরে ধীরে
তার শরীরের নদীগুলোতে নামল,প্রবাহিত হতে থাকলো
আর তার হাত ও পা দুটি
পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন বিরান দ্বীপ হয়ে গেল মুহুর্তেই।
শিষ্যরা কাঁদছিল অঝরে
কিন্তু সক্রেটিস দিব্য চোখে দেখছিলেন
অদৃশ্য আকাশে
নতুন সংলাপ শুরু হয়ে গেছে মেঘের সাথে জল ও মাটির।
মৃত্যু নগরের ঋষিরাজ সক্রেটিসের কাছে এল
অবনত মস্তকে একজন অনুগত ছাত্রের মত,
আর জানতে চাইলো
গুরু, এখন আমাকে শেখাও বলে যাও
আত্মারা কোথায় যায়!
সক্রেটিস বেদনায় নীল তবুও হাসতে হাসতে একটু পরে
চোখ বন্ধ করলেন।
তার শেষ নিঃশ্বাস
একটি অদৃশ্য দরজা হয়ে খুলে যেতে চায়
আর সত্য?
কারাগারের ছাদ ভেঙ্গে চুড়মার করে
নক্ষত্রের দিকে উড়ে গেল জোয়ার ভাটার টানে
আকাশে সমূদ্রে ঢেউ ছিলো ঋষিরাজ সক্রেটিসের হলাহলে সেই মৃত্যুর ক্ষণ।
সক্রেটিস যে দিন মরে গেলেন
এথেন্সে কি কমে গিয়ে ছিলো একজন মানুষ?
নাকি অনেক অনেক প্রশ্ন জন্ম নিয়ে সাঁতার কাটছিলো!
যার উত্তর হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ খুঁজে ফিরবে?
সে দিন এথেন্সের একজন মানুষ কমে গিয়ে ছিলো আর আজ
দেখ,আমরা সকলে এথেন্সের নাগরিক হয়ে বসে আছি।
